
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: সাত দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পরিচালিত লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান গণভোটের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা আজ জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমেছি। যে ৭ দফা আমরা উপস্থাপন করেছি, তা কোনো একক দলীয় দাবি নয়; এটি এ দেশের আমজনতার দাবি। জনগণের সঙ্গে বর্তমান সরকার যে বিশ্বাসঘাতকতা ও অপমানজনক আচরণ করেছে, তার জবাব দিতেই আমরা একত্রিত হয়েছি।”
শনিবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাতে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম মাঠে আয়োজিত ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ভালোয় ভালোয় জনগণের প্রাণের ৭ দফা মেনে নিন। তা না হলে ১ দফার চূড়ান্ত আন্দোলন অনিবার্য হয়ে উঠবে। ইনশাআল্লাহ, জনগণের এই দাবি পূরণ করেই আমরা ঘরে ফিরব।”
কুষ্টিয়াবাসীর প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদেরই সন্তান দেশের স্বার্থ রক্ষায় একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছে। তার এই আত্মত্যাগ প্রমাণ করে এ দেশের মানুষ দেশকে কতটা ভালোবাসে। তাই কোনো প্রলোভনে নয়, কেবল খাঁটি দেশপ্রেমের টানে আমাদের সঙ্গে ঢাকায় রাজপথের আন্দোলনে শরিক হোন।”
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা আজ ১৮ কোটি জনতার প্রাণের দাবি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।”
১. গণভোটের কাঙ্ক্ষিত রায় অবিলম্বে কার্যকর ও বাস্তবায়ন করা।
২. জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা।
৩. তেল, সার, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে এনে বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।
৪. চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, দখলদারি ও স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার চিরতরে অবসান ঘটানো।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন সাধন করে সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৬. বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব রাজনৈতিক ও হয়রানিমূলক মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা।
৭. দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ এ.কে.এম. মহসিন আলীর সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এনামুল হকের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন:
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার — সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী
হামিদুর রহমান আজাদ — সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, জামায়াতে ইসলামী
কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ — সভাপতি, এলডিপি
আল্লামা মামুনুল হক — আমীর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
আব্দুল হান্নান মাসুদ — সংসদ সদস্য, এনসিপি
ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান — চেয়ারম্যান, লেবার পার্টি
নুরুল ইসলাম সাদ্দাম — কেন্দ্রীয় সভাপতি, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির
সাদিক কাইয়ুম — ভিপি, ডাকসু
এস এম ফরহাদ — জিএস, ডাকসু
আনোয়ারুল কবির চাঁদ — চেয়ারম্যান, বিডিপি পার্টি
এ ছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন।
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর আগে আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান ঝিনাইদহ, কালীগঞ্জ ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পথসভায় বক্তব্য প্রদান করেন। জনসভা শেষে সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার এ.কে.এম. আলী মহসিন লংমার্চ সফল করায় কুষ্টিয়াবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।#