
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া থেকে নিখোঁজের ছয় দিন পর ঢাকা ও হেমায়েতপুর এলাকা থেকে চার কিশোরীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তারা নিজেদের ইচ্ছায় বাড়ি ছেড়ে একসঙ্গে ‘বিয়ে’ করে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর উপজেলার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার পক্ষ থেকে থানায় যোগাযোগ করা হয়। নিখোঁজ কিশোরীদের উদ্ধারে তৎক্ষণাৎ বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার আরেক কিশোরীর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একই কায়দায় মিরপুরের আরও দুই কিশোরীর সঙ্গেও বিভিন্ন মাধ্যমের সম্পর্ক তৈরি হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী বাড়ি ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। সেখানে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পর তারা একত্রে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই চার কিশোরী ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে ‘বিয়ে’ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একই ছাদের নিচে বসবাস শুরু করেন, যেখানে অপর দুই কিশোরীও অবস্থান করছিলেন।
এদিকে নিখোঁজের ঘটনার পর আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্তের কাজ শুরু করে মিরপুর থানা পুলিশ। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কাকিলাদহ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) ইউসুফ আলী সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে গত রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই চার কিশোরীকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার হওয়া চারজনের বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম জানান, “টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে কিশোরীদের মধ্যে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল। নিখোঁজ তিন কিশোরীসহ মোট চারজনকে ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের মাধ্যমে তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।#