
শহিদুল্লাহ আল আজাদ, স্টাফ রিপোর্টার: খুলনার রূপসায় ভূমিদস্যু ও মামলাবাজ নাসির উদ্দিনের চক্রের হাত থেকে নিজের জমি উদ্ধার এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটি খুলনা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রূপসা উপজেলার নৈহাটী গ্রামের বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য লিয়াকত আলী খান।
লিখিত বক্তব্যে লিয়াকত আলী খান জানান, রূপসা উপজেলার জাবুসা মৌজার ৫০৭ নং খতিয়ানের ১৫১৭ ও ১৬৭২ দাগের ১.০৪ একর জমি তাদের ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি। ওই জমি নৈহাটী গ্রামের সুরত আলী খাঁনের ছেলে লিয়াকত আলী খানসহ চার ভাইয়ের নামে রয়েছে।
সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন লিয়াকত আলী খান তার ভাগ্নে, জাবুসা গ্রামের মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে নাসির উদ্দিনকে (৫৭) উক্ত জমির ঘেরে বসতঘর নির্মাণ করে দেন এবং নিজের নামে বৈদ্যুতিক মিটার স্থাপন করে দেন। পরবর্তীকালে বার্ষিক ৩০,০০০ টাকা লিজ দেওয়ার শর্তে নাসির উদ্দিনকে জমি ব্যবহারে অনুমতি দেওয়া হয়।
তবে বিগত ২ বছর ধরে নাসির উদ্দিন লিজের টাকা পরিশোধ করছেন না। জমি ছেড়ে দিতে বললে নাসির উদ্দিন, তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪৫), মেয়ে নাসরিন আক্তার (২৫) এবং জামাতা মোঃ এমদাদ মোড়ল (৩৫) জমি দখলের অপচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
লিয়াকত আলী খান জানান, গত ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি ও তার দুই ভাই জমিতে গেলে ৭-৮ জন মিলে বেলা ১১টার দিকে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে ১০৭/১১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৫ ও ১৬ আগস্ট জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হুমকি দেওয়া হলে রূপসা থানায় জিডি (নং-৫৪৫) করা হয়।
বিবাদ মেটাতে লিয়াকত আলী খান নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। গ্রাম আদালতের শুনানিতে উপস্থিত না হলেও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ইউপি পরিষদ ২৫ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে লিয়াকত আলী খানের বকেয়া ৪৭,০০০ টাকা পরিশোধ ও জমি ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কিন্তু বিবাদী এই সিদ্ধান্ত অমান্য করেন।
নাসির উদ্দিন পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্তে নামেন। তদন্তে লিয়াকত আলী খান জমির খাজনা-খারিজসহ সমস্ত বৈধ কাগজপত্র দাখিল করলেও নাসির উদ্দিন কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি। ফলে প্রশাসন লিয়াকত আলী খানের পক্ষে মতামত প্রদান করে। এরপরও বিবাদী লিয়াকত আলী খানের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ও তার পরিবার উক্ত ভূমিদস্যু ও মামলাবাজদের কবল থেকে নিজেদের সম্পত্তি উদ্ধার ও নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের উর্ধ্বোতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#