
মোহা: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: উজান থেকে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চলের বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
পদ্মা, মহানন্দা ও পুনর্ভবায় পানির বর্তমান অবস্থা
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) তথ্য অনুযায়ী, পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১.৭৬ মিটার (বিপৎসীমা ২২.০৫ মিটার)। গত পাঁচ দিনে পদ্মায় পানি বেড়েছে ৪৪ সেন্টিমিটার।
পদ্মা নদী (পাঙ্খা পয়েন্ট): ২১.৭৬ মিটার (বিপৎসীমার ২৯ সে.মি. নিচে)
মহানন্দা নদী (খালঘাট পয়েন্ট): ১৯.৪৩ মিটার (বিপৎসীমা ২০.৫৫ মিটার)
পুনর্ভবা নদী (রহনপুর পয়েন্ট): ১৯.৪৬ মিটার (বিপৎসীমা ২১.৫৫ মিটার)

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ
পদ্মার পানি বৃদ্ধির ফলে পাঁকা, দুর্লভপুর ও মনাকষা ইউনিয়নের বিশরশিয়া, গমের চর, গাইপাড়া, নামো জগন্নাথপুর, নামো পিয়ালীমারী, হাসানপুর, চর সিংনগর, হঠাৎপাড়া, পারচৌকা নতুনপাড়া ও নতুন রাঘরবাটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা লালমোহাম্মদ ও তরিকুল আলম জানান, নদীভাঙনের পর নতুন জায়গায় ঘর তুলেছিলেন তারা, যা এখন আবার বন্যায় ভেসে যাওয়ার উপক্রম। বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় পরিবার নিয়ে অনেকে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। একই সঙ্গে দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।

প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বক্তব্য
পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক: “পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম: “ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। দুর্গতদের জন্য খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব: “পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামীকাল পর্যন্ত পানি বাড়তে পারে, এরপর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে, তাই বড় কোনো বন্যার আশঙ্কা নেই।”

দ্রুত পদ্মার পানি কমার পাশাপাশি ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির সহায়তার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন প্লাবিত এলাকার হাজারো মানুষ।#