
বিশেষ প্রতিনিধি (সাব্বির আলম বাবু): দীর্ঘদিন ধরে তীব্র চিকিৎসক সংকটে ভুগছে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। অল্পসংখ্যক ডাক্তার দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের অসুস্থতা ভুলে রোগীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসায় ভাসছেন দুই চিকিৎসক।
শনিবার রাতে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। জরুরি বিভাগের ভেতরে দেখা যায় এক অভূতপূর্ব দৃশ্য—মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ইরফান মাহমুদ নিজের বাম হাতে ক্যানুলা পরিহিত অবস্থায় চেয়ারে বসে একের পর এক রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছেন। রাত ১২টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এর পরপরই জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে এগিয়ে আসেন ডা. নয়ন চন্দ্র রায়। মাইগ্রেনের তীব্র যন্ত্রণা সত্ত্বেও ওষুধ খেয়ে তিনি সারারাত রোগীদের সেবা দিয়ে যান। এমনকি রবিবার দুপুর থেকেও তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুই চিকিৎসকের এমন মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে সাধারণ রোগীরা বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন।
ভোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটের চিত্র: হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই সরকারি হাসপাতালে মঞ্জুরিকৃত ৮৭ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৭ জন। ফলে একেকজন চিকিৎসককে অতিরিক্ত সময় ধরে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
প্রতিদিনের সেবাগ্রহীতা: ইনডোরে প্রায় ৪৫০ জন এবং আউটডোরে ৫০০ জনের বেশি রোগী নিয়মিত সেবা নেন।
মোট রোগী: দৈনিক গড়ে ৭০০ থেকে ৯০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।
শয্যা সংকট: অতিরিক্ত রোগীর চাপে অনেককে মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
দ্রুত ডাক্তার পদায়নের দাবি: রোগীর স্বজন আফজাল মাহমুদ জানান, দ্বীপ জেলা ভোলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের উন্নত চিকিৎসার জন্য এই সরকারি হাসপাতালটির ওপরই নির্ভর করতে হয়। তাই দ্রুত চিকিৎসক পদায়ন করে আধুনিক সেবার পরিবেশ তৈরির দাবি জানান তিনি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, “অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্রুত এই সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।”
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে নতুন পদায়নকৃত চিকিৎসকরা যোগদান করলেই সেবার মান স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা ভোলার সর্বস্তরের মানুষের।#