
বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় প্রয়োজনীয় নবজাতক পরিচর্যা ইউনিট (SCANU) ও দক্ষ জনবল ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ সিজারিয়ান অপারেশন এবং সাংবাদিকের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ‘জননী ক্লিনিক’ ঘিরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত ২৮ আগস্ট এই ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মুমূর্ষু অবস্থায় মৃত্যু এবং রেফার্ডের সময় সংবাদকর্মীর ধারণ করা ভিডিও জোরপূর্বক ডিলিটের চেষ্টার ঘটনায় স্থানীয় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনস্বার্থে জননী ক্লিনিকের লাইসেন্স, চিকিৎসক ও নার্সদের সনদ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অপারেশন পদ্ধতি সরেজমিনে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—ক্লিনিকে স্থায়ী চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী সিনিয়র নার্স, নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যার আলাদা ওয়ার্ড, ওটি সরঞ্জাম, পর্যাপ্ত আলো, অগ্নি প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং জরুরি রোগী পরিবহনের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স আছে কিনা? এছাড়া সেখানে অপারেশনগুলো কোন ধরনের চিকিৎসকরা পরিচালনা করেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে ঘটনা আড়ালের চেষ্টা নিয়ে। মুমূর্ষু নবজাতককে রাজশাহী শহরে রেফার্ডের সময় ভিডিও ধারণ করায় দৈনিক যায়যায়দিন ও দৈনিক নতুন প্রভাত-এর স্থানীয় প্রতিনিধি আব্দুল হামিদের মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলিট করার চেষ্টা চালান ডাঃ আকতারুজ্জামান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি মেডিকেলে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও ক্লিনিকে উপস্থিত ছিলেন এবং ওই সময় সংবাদকর্মীর সাথে অশালীন আচরণ করেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তদন্ত
গত ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী সিভিল সার্জনের নির্দেশে গঠিত একটি তদন্ত টিম জননী ক্লিনিক পরিদর্শন করে। তদন্তকালে ক্লিনিকে কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসক পাওয়া যায়নি এবং নার্স পরিচয়ে কর্মরত ৩ জনের পেশাগত সনদ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
অপারেশনকারী ডাঃ আকতারুজ্জামান ও অ্যানেসথেসিয়ার ডাঃ তুহিন হোসেনের দাবি—অপারেশনের পর নবজাতকের গলায় নাড়ি প্যাঁচানো ছিল এবং শ্বাসকষ্ট হওয়ায় প্রাথমিক পরিচর্যা দিয়ে রেফার্ড করা হয়।
ভুক্তভোগীর ক্ষোভ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা
অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশের পর নবজাতকের বাবা সাদ্দাম হোসেন সাহিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, “ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে, আমি বিচার চাই।” পরবর্তীতে তাকে ক্লিনিকে ডেকে আনা হলে তিনি মৌখিকভাবে অভিযোগ নেই বলে জানালেও পূর্বের কমেন্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এই ক্লিনিকে পূর্বেও ভুল চিকিৎসা ও অপারেশনের পর জটিলতায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আসাদুজ্জামান আশাদ জানান, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।#