1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
​বাংলাদেশের বাজেট রাজনীতি: চিরাচরিত আখ্যান ও বাস্তবতার নিরিখ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের শীর্ষ নেতাদের আশ্রয়ে হত্যাচেষ্টার মামলার আসামি কামরুজ্জামান চঞ্চল দুর্গাপুরে ধর্ষণ মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে রাজশাহীতে স্টার্টআপ বিজ্ঞান ও ইনোভেশন প্রতিযোগিতা ড্রেন নির্মাণ কাজে অনিয়ম, ইউপি সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ ইউএনওর  কানসাট আম বাজার দামে চাঙ্গা হলেও নানা কারণে চাষীরা হতাশ জাতীয় বাজেটে রাজশাহীর সম্ভাবনার যথাযথ প্রতিফলনের আহবান: মামুন শ্যামনগরে সাংবাদিক মিজানকে হত্যার হুমকি আল আজিমের নামে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তানোরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর ও সড়কের পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শিবগঞ্জে উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ

​বাংলাদেশের বাজেট রাজনীতি: চিরাচরিত আখ্যান ও বাস্তবতার নিরিখ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

____ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥

বাজেট একটি রাষ্ট্রের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব হলেও বাংলাদেশে এটি কেবল অর্থনৈতিক দলিল নয়, বরং রাজনীতির এক বড় ক্ষেত্র। বাজেট পেশের সাথে সাথে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে যে উত্তাপ সৃষ্টি হয়, তা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের পথচলায় বাজেটের আকার বেড়েছে বহুগুণ, কিন্তু বাজেটোত্তর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ধরণ যেন একই বৃত্তে বন্দী। বিরোধী দলের চিরাচরিত স্লোগান ‘এ বাজেট গরিব মারার বাজেট, এ বাজেট মানি না’—এই অমোঘ বাক্যটিই যেন প্রতিবার বাজেট ঘোষণার অলিখিত প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ​বাজেট রাজনীতির স্বরূপ বাংলাদেশে বাজেট ঘোষণার দিন থেকেই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে প্রতিক্রিয়া তৈরির প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। জাতীয় সংসদে বাজেট পেশের মুহূর্ত থেকেই বিরোধী দলের সদস্যরা একে ‘গণবিরোধী’ বা ‘গরিব মারার বাজেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সংসদীয় রাজনীতির এই সংস্কৃতিতে গঠনমূলক সমালোচনার চেয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং সংসদ বর্জনই প্রধান অস্ত্র হয়ে ওঠে। এবারের বাজেটেও তার কোনো ব্যতিক্রম ঘটেনি। সংসদ বর্জন করে রাস্তায় মিছিল করা—এই দৃশ্যপটে আমাদের সংসদীয় চর্চার এক দীর্ঘস্থায়ী সীমাবদ্ধতা ফুটে ওঠে। ​তথ্য ও উপাত্তের প্রেক্ষাপট বাংলাদেশের প্রথম বাজেট (১৯৭২) থেকে আজকের বৃহৎ বাজেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, বাজেটের আকার ৭৮৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিশাল ব্যাপ্তি সত্ত্বেও জনসাধারণের মনে বাজেটের দিনগুলোতে যে আতঙ্ক দেখা দেয়, তা মূলত মূল্যস্ফীতি, পরোক্ষ করের বোঝা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতিকে কেন্দ্র করে। বিরোধী দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে এই সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ধারণ করেই রাজপথে সোচ্চার হয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতিটি বাজেটে ধনীদের সুবিধা দেওয়া হয় এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়নমূলক বাজেটে ঘাটতি ব্যবস্থাপনা এবং মুদ্রাস্ফীতির মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর গভীর বিশ্লেষণের চেয়ে জনতুষ্টিবাদী স্লোগানের দিকে ঝোঁক অনেক বেশি।

​বাজেট ২০২৬-২৭: একটি ইতিবাচক বিশ্লেষণ ১১ জুন ২০২৬ তারিখে পেশকৃত বাজেটটি বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর প্রধান ইতিবাচক দিকসমূহ হলো: ​সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: প্রান্তিক মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতের আওতা ও বরাদ্দ বৃদ্ধি উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করবে। ​কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা: কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং সারে ভর্তুকি বহাল রাখা দেশের খাদ্য উৎপাদন বজায় রাখতে সহায়তা করবে। ​অবকাঠামোগত বিনিয়োগ: মেগা প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ বজায় রাখা হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ব্যবসার খরচ (Cost of Doing Business) কমাবে। ​আত্মনির্ভরশীলতা: বিশ্ব অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার এই সময়ে অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া আমদানি নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। ​

উল্লিখিত চ্যালেঞ্জগুলো—যেমন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব আহরণের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যাংক ঋণের চাপ—বাস্তবসম্মত। তবে একে কেবল সমস্যা হিসেবে না দেখে কর সংস্কার ও আধুনিকায়নের একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করলে বাজেটের ভবিষ্যৎ ইতিবাচক দিকটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ​

উপসংহার বাজেট মানেই আশা আর নিরাশার দোলাচল। রাজনৈতিক দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বাজেট যখন কেবল ‘গরিব মারার’ বা ‘উন্নয়নবান্ধব’—এই দুই মেরুতে আটকে থাকে, তখন উন্নয়নের মূল লক্ষ্য পথ হারায়। বিরোধী দলের দায়িত্বশীল সমালোচনা এবং সরকারি দলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বাজেটের প্রকৃত সুফল জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই চিরাচরিত গণ্ডি পেরিয়ে গঠনমূলক সংলাপ ও বিতর্কের পরিবেশ তৈরি করাই বর্তমান সময়ের দাবি। বাজেট কেবল রাজনীতির হাতিয়ার নয়, বরং এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তির রোডম্যাপ—এই উপলব্ধিই আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পরিপক্ক করে তুলবে!#

…. ​লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক প্রাবন্ধিক ও সমাজচিন্তক।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট