1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
মায়ের কোল খালি, ছেলের পথচলা থেমে গেল—৩ ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন ঠাকুরগাঁওয়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং  মৃত্যুর পর আমলনামা জারির প্রকৃত মাধ্যম ও প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা ভোলাহাটে জ্বালানী তেলের সঙ্কটে দিশেহারা কৃষক, পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে ধান ও আমের মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা বিঘ্নিত দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার্থীদের দোয়া অনুষ্ঠিত রূপসায় প্রফেসর আব্দুর রশিদ এর ২য় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত বিদায় অনুষ্ঠানে কাঁদালেন সবাইকে,  খুলনার তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আমির হামজার হৃদয়স্পর্শী বক্তব্য সেই ৩৯ শিক্ষার্থীর ফরম পূরণ সম্পন্ন, দুশ্চিন্তা কাটলো এসএসসি পরীক্ষার পোরশা উপজেলা প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি গঠন বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত.উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে

​স্বাধীনতার পতাকা ও সার্বভৌমত্বের রক্ষক: বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দূরদর্শিতা

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১০৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

_________ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥ ​

ভূমিকা: ​বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া একটি অনন্য ও অবিচ্ছেদ্য নাম। এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাজপথের লড়াকু সৈনিক এবং পরবর্তীতে তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর উত্থান ছিল বিস্ময়কর। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর একটি সাহসী উক্তি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছিল। মানিক মিয়া এভিনিউয়ের বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন— “আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা, অন্যদের হাতে গোলামির জিঞ্জির।” এই একটি বাক্যই সেদিন কোটি মানুষের হৃদয়ে জাতীয়তাবাদী চেতনার বীজ বুনে দিয়েছিল। ​ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও স্লোগানের তাৎপর্য ​১৯৮০-এর দশকের শেষভাগে এবং ৯০-এর শুরুর দিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এবং রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে যখন জনমনে নানা প্রশ্ন ছিল, ঠিক তখনই বেগম খালেদা জিয়া এই ঐতিহাসিক বক্তব্যটি প্রদান করেন। ছবির সংবাদ ক্লিপিংয়ে সেই মুহূর্তের প্রতিফলন দেখা যায়।

​জাতীয়তাবাদী আত্মপরিচয়: তিনি বিএনপিকে স্বাধীনতার প্রকৃত উত্তরসূরি হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। ​

সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা: ‘গোলামির জিঞ্জির’ শব্দবন্ধের মাধ্যমে তিনি দেশি-বিদেশি শক্তির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন। তাঁর এই অবস্থান সাধারণ মানুষকে এই বার্তা দিয়েছিল যে, বাংলাদেশের ভাগ্য বিধাতা হবে এদেশের মানুষই, কোনো বিদেশি শক্তি নয়। ​দেশপ্রেম ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীনতা ​বেগম খালেদা জিয়ার দেশপ্রেম ছিল প্রশ্নাতীত। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি কোনো প্রকার আপস করতে জানেন না।

​সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী: তিনি বিশ্বাস করতেন, একটি স্বাধীন দেশের উন্নয়ন তখনই টেকসই হয় যখন তার সিদ্ধান্তগুলো স্বাধীনভাবে গৃহীত হয়। ​

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা: বাংলাদেশের খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর কঠোর অবস্থান এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তিতে সই না করার দৃঢ়তা আজও তাঁর দেশপ্রেমের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য হয়। ​

রাজনৈতিক দূরদর্শিতা: একটি আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার ​দূরদর্শিতা একজন নেতার সবচেয়ে বড় গুণ, যা বেগম খালেদা জিয়ার মাঝে প্রবলভাবে বিদ্যমান ছিল। তাঁর গৃহীত অনেক পদক্ষেপ আজও বাংলাদেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে: ​

নারী শিক্ষার বিপ্লব: ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করা ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমেই আজকের বাংলাদেশের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী নারী সমাজ গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত হয়েছে।

​মুক্তবাজার অর্থনীতি ও উৎপাদন: তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের ‘উৎপাদনের রাজনীতি’র ধারা বজায় রেখে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করেছিলেন। তাঁর সময়েই দেশে পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন রপ্তানি খাত শক্তিশালী ভিত্তি পায়। ​

পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য: ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’—এই নীতিতে অটল থেকে তিনি এশিয়ার শক্তিশালী অর্থনীতিগুলোর সাথে (Look East Policy) সম্পর্ক গভীর করেছিলেন, যা বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছিল। ​আপসহীন নেত্রীর ভাবমূর্তি ​বেগম খালেদা জিয়া কেন ‘আপসহীন’—তার প্রমাণ মেলে এরশাদ বিরোধী দীর্ঘ ৯ বছরের সংগ্রামে। যখন অনেক রাজনৈতিক দল বিভিন্ন সময়ে সমঝোতা বা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল, তিনি তখন রাজপথে অটল ছিলেন। তাঁর এই অনড় অবস্থানের কারণেই ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল। ছবির সেই জনসমুদ্রই প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষ তাঁর নেতৃত্বের ওপর কতটা আস্থাশীল ছিল। ​

উপসংহার: ​বেগম খালেদা জিয়ার “আমাদের হাতে স্বাধীনতার পতাকা” উক্তিটি কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং এটি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের একটি কালজয়ী ইশতেহার। তাঁর দেশপ্রেম এবং সুদূরপ্রসারী চিন্তাচেতনা বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিতি দিয়েছে। ইতিহাসের বাঁকবদলে এই স্লোগানটি আজও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে প্রাসঙ্গিক। একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবে তাঁর সংগ্রাম এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্তগুলো আগামীর প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেমের এক অনন্য পাঠ হয়ে থাকবে!#

৥ … ​লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট