
মোঃ মিজানুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ খুলনার দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসার ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানের মধ্যমণি হয়ে উঠেছিলেন অত্র মাদ্রাসার ছাত্র এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ, তরুণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হাফেজ মো. আমির হামজা (১৯)। তার দেওয়া হৃদয়বিদারক ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তৃতা উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চোখে জল এনে দেয়।
বর্তমানে এই বক্তব্যের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে অনুষ্ঠানের প্রেক্ষাপট হাফেজ মো. আব্বাছ আলীর পুত্র আমির হামজা বর্তমানে দৌলতপুর আলিম মাদ্রাসাতে অধ্যয়নরত। আসন্ন দাখিল ২০২৬ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে যাওয়া বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি তার জীবনের সংঘাত, পড়াশোনার গুরুত্ব এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিয়ে আলোচনা করেন।
আমির হামজা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আত্মিক বন্ধন: দীর্ঘ কয়েক বছরের পথচলায় শিক্ষকদের স্নেহ এবং শাসনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। জীবনের লক্ষ্য:একজন হাফেজ এবং শিক্ষার্থী হিসেবে দ্বীনি ও দুনিয়াবি শিক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে কিভাবে দেশ ও দশের সেবা করা যায়, সে বিষয়ে উপস্থিত সতীর্থদের উৎসাহ দেন। পিতা-মাতার অবদান: তার এই পথ চলায় পিতা হাফেজ মো. আব্বাছ আলীর ত্যাগ ও দোয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের প্রতিক্রিয়া, আমির হামজার এই পরিণত ও সাবলীল আলোচনায় মুগ্ধ হয়েছেন মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।
উপস্থিত একজন প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, “আমির হামজা শুধু একজন ভালো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর নয়, সে একজন অত্যন্ত মেধাবী এবং আদবসম্পন্ন ছাত্র। তার কথাগুলো আজ আমাদের সবাইকে আবেগাপ্লুত করেছে। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।” সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন, জনপ্রিয় এই তরুণ হাফেজের কন্টেন্টগুলো আগে থেকেই খুলনাসহ সারাদেশের মানুষের কাছে সমাদৃত। তবে বিদায় অনুষ্ঠানের এই বিশেষ মুহূর্তটি নেটিজেনদের মন জয় করে নিয়েছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, এ ধরনের মেধাবী এবং ধার্মিক তরুণরাই আগামী দিনের সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
দোয়ার দরখাস্ত, প্রতিবেদন শেষে আমির হামজা ও তার পরিবার সকলের কাছে দোয়ার দরখাস্ত জানিয়েছেন। তিনি যেন আসন্ন পরীক্ষায় সফল হতে পারেন এবং ইসলামের সঠিক শিক্ষা প্রচারের মাধ্যমে সমাজের সেবা করতে পারেন, এটাই তার মূল লক্ষ্য।#