1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
বিলুপ্তের পথে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা বসন্তের রুপকন্যা শিমুল গাছ  - দৈনিক সবুজ নগর
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
আত্রাইয়ে জাতীয় যুব দিবস উদযাপিত: ১৪ উদ্যোক্তাকে ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ রাসিক প্রশাসকের সঙ্গে রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের নবনির্বাচিত কমিটির সৌজন্য সাক্ষাৎ তরুণদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে: রাসিক প্রশাসক ভোলায় শ্রমিক লীগ নেতার করাতকলে সরকারি গাছ, যুবদল নেতা বহিষ্কার আত্রাইয়ে জাতীয় যুব দিবস পালিত, যুব উদ্যোক্তাদের মাঝে ১৪ লাখ টাকার ঋণ বিতরণ বাগমারায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে শত শত বাঁশঝাড় শিবগঞ্জে সিএনসি ফার্নিচার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি যুব সমাজই দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা করার মূল শক্তি: এমপি মিলন নাচোলে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় যুব দিবস পালিত ৭ দফা না মানলে ১ দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে: কুষ্টিয়ায় লংমার্চের সমাপনীতে ডা. শফিকুর রহমান

বিলুপ্তের পথে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা বসন্তের রুপকন্যা শিমুল গাছ 

  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

# আবুল কালাম আজাদ……………………………………………..

উত্তর জনপদের বিভাগীয় জেলা শহর রাজশাহীতে কালের বিবর্তনে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলা আগুন ঝরা ফাগুনে চোখ ধাঁধানো গাঢ় লাল রঙের অপরূপ সাজে সজ্জিত বসন্তের রুপকন্যা শিমুল বিলুপ্তপ্রায়। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে আবহমান গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে অনেক ফুল ফোটলেও এখন আর তেমন চোখে পড়েনা রক্তলাল নয়নাভিরাম শিমুল ফুল।

 

দেড় যুগ আগেও জেলার উপজেলা গুলোর বিভিন্ন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ির আনাচে কানাচে বা রেললাইনের পাশে,পুকুর ধারে অনেক শিমুল গাছ দেখা গেলেও এখন তেমন একটা চোখে পড়ে না। এক সময় প্রতিটি গাছে গাছে প্রস্ফুটিত শিমুল ফুলই স্মরণ করিয়ে দিতো বসন্তের আগমন বার্তা।

 

শীতের পরেই ঋতুরাজ বসন্ত আগমন।ইতিমধ্যেই  প্রকৃতিতে আভাস দিচ্ছে ঋতু বসন্তের আগমনের আভাস। প্রতিটি গাছেই আসতে শুরু করেছে নতুন পাতা। প্রকৃতিতে দক্ষিণা বাতাসে আম্রমুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণে মুগ্ধ চারিদিক। কোকিলের সুমিষ্ট কুহুতালে ফাগুনের উত্তাল বাসন্তী হাওয়া দিচ্ছে দোলা। গাছে গাছে জেগে উঠেছে সবুজ পাতা। মুকুল আর শিমুল ফুল দেখে বোঝা যায় শীত বিদায় নিয়ে আসছে ফাগুন।

 

শিমুল গাছের শাখাগুলো বসন্তের আগমনে লাল শাড়ির ঘোমটা পরা গ্রাম্য নববধূর সাজে সজ্জিত হতে দেখা যায়, যা দর্শনে হতাশ প্রেমিকের মনেও জাগিয়ে তোলে আশা। অন্যান্য গাছের তুলনায় শিমুল গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় বহু দূর থেকে এ মনোরম দৃশ্য চোখে পড়ে। জোয়ার এনে দেয় কবির কল্পনার জগতে।

 

শুধু সৌন্দর্যই বিলায় না, শিমুল গাছের রয়েছে নানা উপকারিতা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব,। প্রাকৃতিক ভাবে তুলা আহরণের অন্যতম অবলম্বন শিমুল গাছ।

 

এ গাছের সব অংশেরই রয়েছে ভেষজগুণ। আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা এখনো নানা রোগের চিকিৎসায় এ গাছের বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে। শিমুল গাছের বৈজ্ঞানিক নাম “বোমবাক্স সাইবা লিন”। এটি বোমবাকাসিয়াক পরিবারের উদ্ভিদ। বীজ ও কান্ডের মাধ্যমে এর বংশবিস্তার হয়। রোপণের ৫-৬ বছরের মধ্যে শিমুল গাছে ফুল ফোটে। ৯০ থেকে ১০০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। সেই তুলনায় বেশ মোটাও হয় । নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে শিমুল গাছ দেড়শ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। শীতের শেষে পাতা ঝরে পড়ে।

 

বসন্তের শুরুতেই গাছে ফুল ফোটে। আর এ ফুল থেকেই হয় ফল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়। বৈশাখ মাসের দিকে ফলগুলো পেকে শুকিয়ে গিয়ে বাতাসে আপনা আপনিই ফল ফেটে প্রাকৃতিকভাবে তুলার সাথে উড়ে উড়ে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়া বীজ থেকেই এর জন্ম হয়। অন্যান্য গাছের মত এ গাছ কেউ শখ করে লাগায় না। নেওয়া হয়না কোন যত্ন। অযত্ন আর অনাদরে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ বেড়ে ওঠে। এ গাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে। এর ছাল, পাতা ও ফুল গবাদিপশুর খুব প্রিয় খাদ্য। বালিশ, লেপ ও তোষক তৈরিতে শিমুল তুলার জুড়ি নেই।

 

অথচ বর্তমানে মানুষ এ গাছকে তুচ্ছ মনে করে কারণে অকারণে কেটে ফেলছে। অতীতে ব্যাপকহারে নির্মাণ কাজ, টুথপিকসহ নানা ধরনের প্যাকিং বাক্স তৈরি ও ইটভাটার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হলেও সেই তুলনায় রোপণ করা হয়নি। ফলে আজ বিলুপ্তির পথে। শিমুল গাছ উজাড় হওয়ার ফলে পরিবেশের উপরে পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব।

 

এ গাছ অনেক উঁচু হওয়ায় কাক, কোকিল, চিল, বকসহ বিভিন্ন ধরনের পাখি বাসা বেঁধে বসবাস করত। এ গাছ উজাড় হওয়ার ফলে এসব পাখিরা আবাসস্থল হারিয়ে পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। গাছ না থাকায় আবাসস্থলের অভাবে ধীরে ধীরে এসব পাখিরাও হারিয়ে যাচ্ছে।

 

জেলার তানোর উপজেলার  প্রবীণ ব্যক্তি কামাল সিদ্দিক বলেন,একটা সময় গ্রামে প্রচুর শিমুল গাছ ছিল। এই শিমুল ঔষধি গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামাঞ্চলের মানুষ বিষফোঁড়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এ গাছের মূল ব্যবহার করত।

 

মোহনপুর সদরের  কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, একটি বড় শিমুল  গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেড়ে গেছে। এর পরও এই গাছ নিধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

 

শিমুল গাছের বিষয়ে প্রবীনরা  বলছেন, শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী এই গাছগুলি তালিকা থেকে এক সময়  হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট