
বিশেষ প্রতিনিধি : সরকারের দেওয়া চাল সহায়তা পেয়েও পদ্মায় অনায়াসে নিষিদ্ধ মা ইলিশ শিকার করছেন একশ্রেণীর অসাধু জেলে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মা নদীতে ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চলছে এই মাছ ধরা। শুধু তা-ই নয়, সীমান্ত এলাকা হওয়ার সুযোগে অর্জিত ইলিশ ভারতে পাচারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ইলিশ ৩,২০০ থেকে ৩,৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলার আলাইপুর, চকরাজাপুর ও মীরগঞ্জ পয়েন্টে সুযোগ বুঝে নদীতে জাল ফেলছেন জেলেরা। বিশেষ করে আলাইপুর-মীরগঞ্জ এলাকাটি ভারতীয় সীমান্তের কাছে হওয়ায় পদ্মায় ধরা পড়া বড় সাইজের ইলিশের একটি বড় অংশ রাতের আঁধারে ভারতীয় জেলেদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। নদীপথেই মাঝরাতে ঘটছে এই ইলিশের হাতবদল।
দিনের চেয়ে রাতে নদীর চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচালিত মৎস্য দপ্তরের অভিযান অত্যন্ত অপ্রতুল।
উপজেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ দিনে নৌ পুলিশ ও থানা পুলিশের সহায়তায় মাত্র ৫টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই অভিযানে মূল ইলিশ ধরা জালের চেয়ে সাধারণ ‘চায়না দুয়ারি’ জাল জব্দ হচ্ছে বেশি।
নিষেধাজ্ঞাকালীন জেলেদের জীবনযাত্রার সহযোগিতায় সরকার প্রতিটি নিবন্ধিত পরিবারকে ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করেছে। বাঘা উপজেলায় মোট ৭৮১ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন—যার মধ্যে বাঘা পৌরসভা, গড়গড়ি, পাকুড়িয়া ও মনিগ্রাম ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেরা এ সহায়তা পেয়েছেন।
তবে চাল পেয়েও নদীতে নামার কারণ হিসেবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, “সরকারি চাল পেয়েছি সত্যি, তবে শুধু চালে সংসার চলে না বলেই বাধ্য হয়ে নদীতে নামতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে, মীরগঞ্জ এলাকার তোয়াজ নামে এক নিবন্ধিত জেলে অভিযোগ করেন, তিনি সরকারের এই সাহায্য পাননি। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মীরগঞ্জ ঘাটের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তে চড়া দাম পাওয়ার কারণে ইলিশ ওপারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তবে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় ইলিশের মিল কম।
গত ২৫ অক্টোবর (রোববার) সন্ধ্যায় মীরগঞ্জ এলাকার পদ্মায় ইলিশের জালে ধরা পড়ে ৬টি বাগাইড় মাছ, যার মোট ওজন ৬৩ কেজি। স্থানীয় ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ৫৬,৭৫০ টাকায় মাছগুলো কিনে শহরের বড় আড়তে বিক্রির জন্য নিয়ে যান।
অভিযোগ প্রসঙ্গে বাঘা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তহুরা হক বলেন, “নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ সার্বিক সহায়তা করছে। তবে অভিযানকালে কোনো জেলে বা ইলিশ আটক সম্ভব হয়নি। সীমান্ত এলাকায় ইলিশ পাচারের বিষয়ে দ্রুত খতিয়ে দেখা হবে।”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার জানান, “অবৈধভাবে ইলিশ শিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভারতে ইলিশ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে বিজিবি ও নৌ পুলিশের যৌথ সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”