
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সোনামসজিদ স্থলবন্দরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অযৌক্তিক হয়রানির অভিযোগ তুলে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ শুরু করেছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীরা।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ কর্মসূচি রাত ৮টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে বন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ জট এবং সামগ্রিক আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভ সমাবেশে সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের পক্ষে মো. ওয়াসিম আকরামসহ অন্যান্য বক্তারা কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ তুলে ধরেন।
তারা অভিযোগ করেন:
তুচ্ছ ঘটনায় অহেতুক কর্মচারীদের হয়রানি করা এবং কোনো কারণ ছাড়াই পাস ও কার্ড আটকে রাখা হচ্ছে।
ফাইল জমা দেওয়ার পর নতুন করে অযৌক্তিক জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে।
পূর্ব কোনো বিজ্ঞপ্তি না দিয়ে হুটহাট নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
নিয়মবহির্ভূতভাবে পণ্যের চালানে অতিরিক্ত ট্যাক্স ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।
বিক্ষোভকারীরা আরও বলেন, কোনো আমদানিকারকের ২০টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থাকলে পণ্য পরীক্ষার বাহানায় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সবকটি ট্রাক পানামার ভেতরে নিয়ে আনলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত খরচের পুরো বোঝা বহন করতে হচ্ছে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের। কাস্টমসের এমন স্বেচ্ছাচারিতা বন্ধ এবং দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এক নজরে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের বর্তমান পরিস্থিতি:
কর্মসূচি: সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ
আন্দোলনের কারণ: কাস্টমসের অনিয়ম, অসদাচরণ ও অন্যায্য হয়রানি
একদিনে প্রবেশকৃত ভারতীয় ট্রাক: ৩৬০টি (মঙ্গলবার দিনভর)
বর্তমান অবস্থা: পণ্যবাহী বা খালি কোনো ট্রাক বন্দর থেকে বের হতে পারেনি
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীরা কী কারণে আন্দোলন করছেন তা জানতে আলোচনার জন্য বার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তারা আলোচনা প্রত্যাখ্যান করায় আন্দোলনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নয়।
অন্যদিকে, সোনামসজিদ বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেড’-এর অপারেশন ম্যানেজার কামাল হোসেন জানান, সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারীদের কর্মবিরতির ফলে বন্দরের ভেতরে ইতোমধ্যে তীব্র পণ্যবাহী ট্রাকের জট সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর ভারত থেকে ৩৬০টি পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করলেও কর্মবিরতির কারণে কোনো গাড়ি খালাস হতে পারেনি। এছাড়া কোনো বাংলাদেশি কিংবা ভারতীয় খালি ট্রাক বন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকলে বুধবার ভারত থেকে আসা নতুন পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো চরম কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে।#