
মোস্তাফিজুর রহমান লিটন, নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর সীমান্ত এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ইউসুফপুর বিওপির সদস্যরা এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ৩০ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স জব্দ করা হলেও চোরাকারবারিদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে চোরাচালানি পণ্য, মাদকদ্রব্য পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাজশাহী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের মাধ্যমে বিজিবি জানতে পারে, একদল চোরাকারবারি ভারত থেকে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক পণ্যের একটি চালান বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে ইউসুফপুর বিওপির একটি আভিযানিক দল রাজশাহীর চারঘাট থানাধীন মুক্তারপুর ক্যাডেট কলেজের পূর্ব পাশের প্রাচীরসংলগ্ন এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়।
এক নজরে অভিযানের তথ্য:
অভিযান পরিচালনাকারী: ইউসুফপুর বিওপি (১ বিজিবি, রাজশাহী ব্যাটালিয়ন)
ঘটনার স্থান: মুক্তারপুর ক্যাডেট কলেজের পূর্ব প্রাচীরসংলগ্ন এলাকা, চারঘাট, রাজশাহী
উদ্ধারকৃত মালামাল: ৩০,০০০ পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স
বর্তমান অবস্থা: উদ্ধারকৃত পণ্য চারঘাট থানায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াধীন
দীর্ঘসময় অবস্থান নেওয়ার পর বিজিবি সদস্যরা দেখতে পান, তিনজন চোরাকারবারি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছে। এ সময় তাদের মধ্যে একজনের কাঁধে একটি বড় ব্যাগ ছিল। বিজিবি সদস্যরা তাদের আটকের উদ্দেশ্যে ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা মুহূর্তের মধ্যে ব্যাগটি ফেলে অন্ধকারে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বিজিবির আভিযানিক দল ফেলে যাওয়া ব্যাগটি তল্লাশি করে মোট ৩০ হাজার পিস ভারতীয় ইলেকট্রিক রেজিস্টেন্স উদ্ধার করে।
জব্দকৃত এসব মালামালের কোনো বৈধ মালিক বা দাবিদার পাওয়া যায়নি। উদ্ধার করা মালামাল চারঘাট থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিজিবি জানায়, এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের চোরাচালান, মাদক পাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির এই জিরো টলারেন্স অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।#