
পাবনা জেলা প্রতিনিধি, মামুনুর রহমান: বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় দপ্তরের ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, লিজ বাণিজ্যের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এবং নানা অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। যোগদানের পর থেকেই তিনি পাকশী বিভাগীয় এলাকার বিভিন্ন স্টেশনের জমি দখল, দালাল সিন্ডিকেট তৈরি এবং অবৈধ অর্থ আদায়ের মাধ্যমে এক নৈরাজ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী, বিএনপি নেতাকর্মী ও রেলওয়ের বিভিন্ন স্তরের স্টাফরা।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শফিকুল ইসলাম পাকশীতে যোগদানের পর থেকেই বৈধ লিজধারীদের বিভিন্ন অজুহাতে লিজ বাতিল করে দিচ্ছেন এবং পরবর্তীতে মোটা অঙ্কের উৎকোচ নিয়ে সেই জমি অন্য ব্যক্তিদের নামে বরাদ্দ দিচ্ছেন। বৈধ লিজগ্রহীতারা তার অফিসের দালাল চক্রের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়।
পাকশী হার্ডিং ব্রিজ থেকে শুরু করে হঠাৎপাড়া এলাকা পর্যন্ত রেলওয়ের অসংখ্য জমি দালালদের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে লাখ লাখ টাকায় লট আকারে বিক্রি করে তিনি আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, গাজীপুর এবং ঈশ্বরদী থেকে সান্তাহার ও পার্বতীপুর রুটের বিভিন্ন স্টেশনে এ ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। পাকশী ও ভেড়ামারা এলাকায় নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই তার এই দুর্নীতির ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
শুধু লিজ বাণিজ্যই নয়, শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ও চাকরিবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় অফিসিয়াল বস তথা পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজারকে (ডিআরএম) নানাভাবে অসম্মান ও অবজ্ঞা করে আসছেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া পছন্দের কিছু অসাধু স্টাফকে সঙ্গে নিয়ে তিনি পাকশী ভূ-সম্পত্তি অফিসে দুর্নীতির এক স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের কারণে পাকশীতে কর্মরত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার-পরিজনরাও বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ আয়ের পথ সুগম করতেই তিনি বিভিন্ন সময় লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযানের নাটক সাজান। এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনাল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলে তিনি তীব্র জনরোষ ও তোপের মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
স্থানীয় বিএনপি ও ব্যবসায়ী নেতাদের অভিযোগ, ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন অনৈতিক ও নেশাজাতীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
পাকশী বিভাগসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ভুক্তভোগী মানুষ, রেলওয়ের কর্মকর্তা-পরিবার এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তার এবং তার পরিবার-পরিজনদের অবৈধ ব্যাংক ব্যালেন্স ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক অবিলম্বে তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
রেলওয়েকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং এই কর্মকর্তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তারা মাননীয় রেলমন্ত্রী, রেল সচিব এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#