
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউলসম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ থেকে টাইম বোমাসদৃশ বস্তু ও পেট্রোল উদ্ধারের ঘটনায় তাৎক্ষণিক কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও, উৎসবের শেষ দিনে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। শেষ দিনেও সাধু-ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে লালনের আখড়াবাড়ি।
বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ:
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে আসা পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণে সন্দেহজনক বস্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। পরে সেখান থেকে একটি টাইম বোমা ও দুটি বোতলে রাখা পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা শেষে বোমাটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়। এ ঘটনার পর আখড়াবাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে আখড়াবাড়ির ভেতরে পুলিশ বক্সের কাছাকাছি একটি সাদা ব্যাগ দেখতে পান এক লালনভক্ত। ব্যাগের ভেতরে সন্দেহজনক বস্তু দেখতে পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ পুলিশকে খবর দেন। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আখড়াবাড়িতে অবস্থানরত সাধু-ফকিরদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভক্ত ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া:
ঢাকা থেকে আগত লালনভক্ত আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রতিবছর লালন সাঁইজির তিরোধান দিবসে তাঁরা কয়েকজন মিলে আখড়াবাড়িতে আসেন। উৎসবের শেষ দিনে বোমা আতঙ্কের খবরে সবাই প্রথমে উদ্বিগ্ন হলেও শেষ পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রয়েছে।
স্থানীয় দৈনিক ‘মাটির ডাক’-এর সম্পাদক লুৎফর রহমান কুমার বলেন, “একটি কুচক্রী মহল মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের আয়োজনকে বিতর্কিত করার জন্য বোমা আতঙ্ক তৈরি করে অনুষ্ঠান পণ্ড করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। তবে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ায় শেষ দিনেও ভক্ত-অনুরাগী ও সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।”
সমাপনী অনুষ্ঠান ও প্রশাসনের বক্তব্য:
উল্লেখ্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করে। সোমবার বিকেলে স্মরণোৎসবের শেষ দিন লালন মঞ্চের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি তৌহিদ বিন হাসানের সভাপতিত্বে এতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গবেষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
ঘটনার বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম বলেন, “আখড়াবাড়ির আঙিনায় বোমা রেখে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা চালানো হয়েছিল। এ ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। এতে শেষ দিনের অনুষ্ঠান বিঘ্নিত হওয়ার কোনো কারণ নেই এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।”