
বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, পারিবারিক বন্ধন ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে চলছে ছবি তোলা, বন্ধুদের আড্ডা ও আনন্দঘন আয়োজন।
বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি:
সোমবার (১৯ অক্টোবর) উপজেলার নারায়ণপুর, বলিহার, পাকুড়িয়া, বাউসা ও আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা গেছে। বলিহার উত্তরপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দির, বলিহার মধ্যপাড়া কালীমাতার মন্দির, বলিহার সার্বজনীন শিবমন্দির ও বিনোদপুর সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তকী ফয়সাল তালুকদার। এ সময় তিনি মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।
ইউএনও তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, “দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা:
পরিদর্শনকালে উপস্থিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তা সত্যজিৎ কুমার সরকার জানান, “শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপির সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় পূজার দিনগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।” এ সময় আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক সোহেল রানা এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের কর্মকর্তা মনসুর আলী উপস্থিত ছিলেন।
উৎসবের আমেজ ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া:
পূজামণ্ডপগুলোকে ঘিরে নানা ধরনের দোকানপাট ও আলোকসজ্জায় সেজেছে এলাকা। ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী শান্ত মিঞা বলেন, “উৎসব মানেই আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে ঘোরঘুরি ও প্রাণখোলা আড্ডার দারুণ সুযোগ এই পূজার সময়।”
পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দর্শনে আসা অপূর্ব কুমার জানান, পরিবারের সঙ্গে অঞ্জলি দেওয়া ও সময় কাটানোর অনুভূতি অত্যন্ত আনন্দদায়ক।
৪৭টি মণ্ডপে নগদ অর্থ ও চাল সহায়তা:
বাঘা উপজেলায় এবার মোট ৪৭টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পূজা উপলক্ষে সরকারি চাল সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
বাঘা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে বলেন, “সব ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। দুর্গাপূজা আমাদের সত্য প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়।#