
মিলন, সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি:বগুড়ার সারিয়াকান্দি পৌর বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রোগাক্রান্ত পশু জবাই এবং ফ্রিজে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত পচা মাংস বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পৌর বাজারের প্রধান সড়কের ওপর চৌকি বসিয়ে প্রকাশ্যে মাংস বিক্রি করায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর বাজারে মাংস বিক্রির নির্ধারিত শেড বা নির্দিষ্ট স্থান থাকা সত্ত্বেও কতিপয় মাংস ব্যবসায়ী প্রশাসনিক নির্দেশ উপেক্ষা করে প্রধান সড়কের ওপর চৌকি বসিয়ে ব্যবসা করছেন। এর ফলে:
ব্যস্ততম সড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচলেও চরম বিঘ্ন ঘটছে।
খোলা পরিবেশে মাংস কাটাকাটির কারণে বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে।
বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অধিক মুনাফা লাভের আশায় উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই অসুস্থ গরু জবাই করা হচ্ছে। এছাড়া আরও যেসব অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে:
ওজন বাড়াতে পানিতে ভিজিয়ে রাখা: গরুর ভুঁড়ি ও ফেব্রা দীর্ঘ সময় পানিতে ভিজিয়ে রেখে কৃত্রিমভাবে ওজন বাড়ানো হচ্ছে।
পুরোনো মাংস মিশিয়ে বিক্রি: ফ্রিজে সংরক্ষিত বাসি-পচা মাংস বের করে তা টাটকা মাংসের সঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
প্রতারণা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি: ক্রেতারা না জেনে এসব মাংস কিনে প্রতারিত হচ্ছেন এবং ক্যানসার, ফুড পয়জনিং ও পেটের নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছেন।
নিয়মানুযায়ী পশু জবাইয়ের পূর্বে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন বা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দ্বারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু সারিয়াকান্দিতে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।
পৌর বাসিন্দা কালাম মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে কয়েকদিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
অভিযোগের বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক এস এম মিকাইল জানান, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মীর কাওছার হোসেন বলেন, “পৌর বাজারের প্রধান সড়কের ওপর চৌকি বসিয়ে মাংস বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুতই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”#