
সবুজনগর ডেস্ক, ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভর করে না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে।
৩ অক্টোবর (২০২৬) ঢাকায় আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর এক আলোচনা অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
‘পাওয়ার অ্যান্ড প্রুডেন্স : ম্যানেজিং গ্রেট-পাওয়ার কম্পিটিশন উইদাউট কনফ্লিক্ট’ শীর্ষক এই সেশনে হাইকমিশনার ত্রিবেদী বলেন, “ভারতের অবস্থান থেকে আমরা মনে করি, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের সমীকরণ অন্য দেশের সম্পর্কের দ্বারা নির্ধারিত হয় না। বাংলাদেশ তার নিরাপত্তাগত স্বার্থ সম্পর্কে সচেতন এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।”
তিনি আরও বলেন, “জনগণ গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছে, তাই বাংলাদেশ সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটিই তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের কী করা উচিত, তা অন্য কারও বলে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক সম্মান ও আস্থার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সংকট বা নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জের সময় প্রতিবেশীদের সহযোগিতা করা উচিত। তবে একই সঙ্গে একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নীতির প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখা আবশ্যক। কোনো দেশেরই প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
পানি বণ্টন, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও পরিবহনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত મુદ્দে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে ত্রিবেদী বলেন, “বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সংলাপ অব্যাহত রয়েছে এবং ধীরগতিতে হলেও আলোচনা থেমে নেই। পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই সব সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব।”
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে কেবল লেনদেনভিত্তিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সম্পর্কের ভিত্তি গভীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। উদাহরণ হিসেবে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অভিন্ন ঐতিহ্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, উক্ত অধিবেশনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) এএনএম মুনিরুজ্জামান, সাবেক ভারতীয় সেনা কমান্ডার অরুণ কুমার সাহনি, জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ক্যারল ক্রিস্টিন ফেয়ার এবং সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফারিস হাদ্রোভিচ।#