
শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ছোট ভাইয়ের হাসুয়ার কোপে বড় ভাই রাসেল হোসেন (২৬) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পরিবারের দাবি, বাঁশ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত পায়ে হাসুয়ার কোপ লেগে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইকুণ্ডি গ্রামের তাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত রাসেল হোসেন ওই এলাকার আহাদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই ইমরানের হাসুয়ার কোপে বড় ভাই রাসেল গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসেলের মা রাশেদা খাতুন। তিনি বলেন, “বাঁশ কাটার সময় হাত থেকে হাসুয়া ছুটে গিয়ে বড় ছেলের পায়ে গুরুতর জখম হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। বড় ছেলে নেশাগ্রস্ত ছিল, তাই দুর্ঘটনার পর দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।” ছোট ছেলের আঘাতে রাসেল আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি মানতে নারাজ।
স্থানীয়রা জানান, ছোট ছেলে ইমরানই মূলত পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এবং সংসারের দেখাশোনা করেন।

হোগলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, পরিবারের লোকজন বলছে বাঁশ কাটতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে স্থানীয়ভাবে দুই ভাইয়ের পারিবারিক বিরোধের জেরেও ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে আলোচনা আছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই নিহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ওসি বলেন, “পরিবারের দাবি এটি একটি দুর্ঘটনা, আবার ছোট ভাইয়ের আঘাতে মৃত্যুর খবরও শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে এবং স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।#