
মাসুদ রানা, নওগাঁ: নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে হত্যা করে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) নওগাঁ জেলা পুলিশ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুন ইউনিয়নের তালপুকুর-মাহমুদপুর এলাকার একটি আমবাগানে আগুনে পোড়া অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে নিহতের ছেলে কাউসার আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় তদন্ত ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে। পরে অভিযান চালিয়ে ধামইরহাটের মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ বাবুল হোসেন (৪৯) ও মোঃ তারেক রহমান (২১)কে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার দুজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি বেল্ট ও নিহতের জুতার ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মেরিনা বেগমের সঙ্গে বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিয়ের জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট অন্য দুই সহযোগীর সহায়তায় মেরিনাকে আগ্রাদ্বিগুন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বেল্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে পরিচয় গোপন ও আলামত নষ্ট করতে মরদেহে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও দুই আসামি জড়িত রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নওগাঁ জেলা পুলিশ অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং অপরাধ প্রতিরোধে সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে।#