
শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদা
দেলওয়ার হোসেনের স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের জন্য নবনির্মিত চারতলা ছাত্রাবাসের বিভিন্ন কক্ষে স্থাপন করা ৬০টি সিলিং ফ্যান ও একটি জলমোটর চুরি হয়ে গেছে। অভিযোগকারী মো. দেলোয়ার হোসেনের দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এদিকে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে ছাত্রাবাসটির নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে ভবনটির পেছনের অংশে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় মাদকসেবীদের আনাগোনা রয়েছে এবং স্থানটি অনেকটা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগকারী মো. দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, “আমাদের ৬০টি ফ্যান ও একটি জলমোটর চুরি হয়ে গেছে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নৈশপ্রহরী জহুরুল ইসলাম ফোনে মাসিক বিল বকেয়া থাকার কথা বলে বিল পরিশোধ না করলে অফিসের আসবাবপত্র বিক্রি করে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে নৈশপ্রহরী জহুরুল ইসলাম ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো দায় স্বীকার করেননি। তার দাবি, তিনি দায়িত্ব ছাড়ার পর ছাত্রাবাসের চাবি সংশ্লিষ্টদের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
ছাত্রাবাসের নৈশপ্রহরী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, “গত ৭ জুলাই আমি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছি এবং প্রতিষ্ঠানের চাবি কর্তৃপক্ষের কাছে বুঝিয়ে দিয়েছি। এরপর থেকে ওই ভবনের দায়িত্ব আমার নয়। সেখানে কী হয়েছে বা কী হয়নি, তা আমি জানি না। তবে গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার বিকেলে শিবগঞ্জ থানার একজন কর্মকর্তা এসেছিলেন। পরে শুনেছি সেখানে চুরি হয়েছে।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ওসি(তদন্ত) মো: আনিছুর রহমান বলেন,আদিনা কলেছে চুরির ঘটনায় দেলওয়ার হোসেন নামে একজন অভিযোগ করেছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। চেষ্টা চলছে চোর সনাক্তের । অনুসন্ধান পেলেই আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চুরির বিষয়ে আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. সৈয়দ মোজাহারুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “এখনো ছাত্রাবাসটি আমরা বুঝে পাইনি। বুঝে পাওয়ার পর আমাদের তত্ত্বাবধানে সবকিছু বুঝে নেওয়া হবে। এরপর আমাদের দল আসবে। তার আগে এ বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারব না।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে ফ্যান ও জলমোটর চুরি হয়েছে। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলব। পাশাপাশি কলেজের সিসি ক্যামেরা ও নৈশপ্রহরীর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।#