
# হামিদুর রহমান, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর তানোর উপজেলার শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা দুই দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ও ধর্মঘট পালন করছেন। এর অংশ হিসেবে বুধবার (৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় তানোর উপজেলা পোস্ট অফিস প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দুই দফা দাবি-সংবলিত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা। আন্দোলনকারীদের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন বাংলাদেশ শাখা ডাকঘর কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী জেলা কমিটির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন এবং সহ-সভাপতি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খাড়িখুল্লা শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. সেলিম উদ্দিন ও পাক চাঁদপুর পোস্ট অফিসের রানার মো. জয়নাল আবেদিন। ধর্মঘট ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান, রানার ও অন্যান্য কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন চিনাশো শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মো. শাফিউল ইসলাম, চান্দুরিয়া পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. গোলাম মোস্তফা, প্রকাশনগর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. আবুল হোসেন, কামারগাঁও পোস্ট অফিসের রানার মোস্তাফিজুর রহমান, কোয়েলহাট পোস্ট অফিসের আব্দুল আজিজ, তানোর উপজেলা পোস্ট অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোনাভান বিবি, হাতিশাইল পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান মিজানুর রহমান, পাক চাঁদপুর পোস্ট অফিসের রানার মো. নুরুল ইসলাম, বহরইল পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. আবদুজ্জোহা, বহরইল পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান মো. ইকবাল হোসেন, কৃষ্ণপুর পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান মো. সাদিকুল ইসলাম, কামারগা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার বকুল কুমার চৌধুরী, মোস্তাক মালেক চন্দ্র এবং সাতপুকুরিয়া পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মোহাম্মদ আজাদসহ উপজেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরের কর্মচারীরা।

আন্দোলনকারীরা জানান, তানোর উপজেলায় মোট ২২টি শাখা ডাকঘর রয়েছে। প্রতিটি শাখা ডাকঘরে গড়ে দুই থেকে তিনজন করে কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন। পোস্টমাস্টার, পোস্টম্যান ও রানারসহ উপজেলায় মোট প্রায় ৬০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৫০ জন এদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি জমা দেন।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাখা ডাকঘর কর্মচারীরা নানা বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছেন। যৌক্তিক দাবি আদায়ে তারা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে সারাদেশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও ডাক বিভাগকে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে জনদুর্ভোগ নিরসনের আহ্বান জানান তারা। ধর্মঘটের কারণে উপজেলার বিভিন্ন শাখা ডাকঘরে ডাক ও আর্থিক সেবাসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সাধারণ গ্রাহকরা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং ডাকসেবা স্বাভাবিক করার জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।#