
# হামিদুর রহমান,তানোর (রাজশাহী)প্রতিনিধি : রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউনিয়নের বিল্লী গ্রামে ডিভোর্সের এক বছর পর এক নারীর বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামী ফরিদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সাবানা খাতুন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে পারিবারিক কলহের জেরে সাবানা খাতুন তার স্বামী ফরিদকে তালাক দেন। তালাকের পর থেকে উভয়েই পৃথকভাবে বসবাস করছিলেন। তবে দীর্ঘদিন পর হঠাৎ করে গত ২৩ জুন সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ফরিদ কয়েকজন যুবককে সঙ্গে নিয়ে সাবানার বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীর দাবি, বাড়ির পেছনের দিক দিয়ে ফরিদ ও তার সঙ্গে থাকা লোকজন বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ সময় বাড়ির ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করা হয়।

সাবানা খাতুন অভিযোগ করেন, হঠাৎ করে হামলার ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় জনগণ তাদের ধাওয়া দিলে ফরিদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকালে এমন ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। প্রাণনাশের আশঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগী সাবানা খাতুন তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পারিবারিক বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের জেরে কোনো ব্যক্তি আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে না। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হলে সমাজে আইনের শাসন আরও সুদৃঢ় হবে।#