
# হামিদুর রহমান,তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:রাজশাহীর তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান কচুয়া কারিগরি ভোকেশনাল (স্কুল) ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণে সরকারের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবে শনিবার (২০ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চারতলা ভিত্তির ওপর একতলা বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান, বিশিষ্ট সমাজসেবক ডা. ওবায়দুল্লাহ, মো. আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথিরা শিক্ষার উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ভিত্তিপ্রস্তর ফলকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভবনটি কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের বাস্তবায়নে এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, রাজশাহীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত হবে। ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, “বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার প্রসারে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া একটি দেশ উন্নয়নের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না। আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও উন্নত পরিবেশে পাঠদান গ্রহণের সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হবে।” তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একাডেমিক ভবন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করছে। কচুয়া কারিগরি ভোকেশনাল স্কুল ও বাণিজ্য মহাবিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণও সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষা বর্তমান সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান মাধ্যম। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশ ও বিদেশের কর্মবাজারে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবে। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট ছিল। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিত। নতুন ভবন নির্মিত হলে সেই সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং শিক্ষার্থীরা আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসমৃদ্ধ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। তারা সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, শিক্ষা খাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন এলাকার সার্বিক শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে নতুন ভবনটি শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নির্মাণাধীন ভবনের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনা করেন। উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।#