
# মাসুদ রানা, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দোকানপাট, ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড, যান চলাচল ব্যাহত এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। মাঠে বোরো ধান মাটিতে নুয়ে পরে পানিতে ডুবছে। শরিবার গভীর রাতে দফায় দফায় ঝড় এবং বজ্রপাতের ঝলকানিতে জনজীবনে আতঙ্ক নেমে আসে। রাত চারটার দিকে একটানা ঝড়ের কারণে বাড়িঘর, দোকানপাট এবং রাস্তায় গাছ পড়ে গেলে যান বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
উপজেলার ছোট চাঁদপুর, বড় চাঁদপুর, হরিরামপুর, মাহমুদপুর, চকজয়রাম, ঠুকনিপাড়া, নতুনহাট, পালসাসহ বিভিন্ন গ্রামের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ে পড়ে যাওয়া ডাল অপসারণ করতে গিয়ে হরিরামপুর মৌজার জুলফিকার আলী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। উপজেলা সর্দারপাড়া মোড়ে কড়াইগাছ উপড়ে পড়ে প্রায় দুই ঘন্টা যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মী এবং স্থানীয় জনসাধারণ দ্রুত ডাল অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন। উপজেলার নজিপুর মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল বটগাছ রাস্তার উপর উপরে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। নজিপুর সরকারি কলেজ চত্বরের বড়রবড় গাছগুলো উপড়ে পড়ে গেছে। ছোট চাঁদপুর গ্রামের শামসুল আলম গত সপ্তাহে টিনের ঘর বেঁধে ছিলেন। গতরাতের ঝড়ে তার পুরো ঘর ভেঙ্গে পড়েছে।
নজিপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন মোড়ে প্রায় ৪০০ চালা ঘর উড়ে গিয়েছে। উপজেলা চত্বরের দক্ষিণে এবং পূর্বে বৃহৎ কড়ই গাছ উপড়ে পড়ে উপজেলার প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝড়ের কারণে বিদ্যুতের তার বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। টেলিফোন এবং ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। নজিপুর বাসস্ট্যান্ড বণিক কমিটির সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং সহ-সভাপতি সাজেদুর রহমান দুলাল ঝড়ের পর পরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে জানা গেছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পত্নীতলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও রিফাত আরা সকলকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।#