1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
  3. saykotrajshahi2@gmail.com : Shazaman :
বাগেরহাটে বনায়নের গাছ রক্ষার অযুহাতে সবজি কর্তন ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি - দৈনিক সবুজ নগর
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
ক্লাস চলাকালীন কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশ রাজশাহী জেলা প্রশাসনের ভিসার আবেদনে দালালদের খপ্পরে পড়বেন না, নিজে আবেদন করুন: মনোজ কুমার রাসিক প্রশাসকের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: অবশেষে সম্পন্ন হেতেমখাঁ-বর্ণালী সড়কের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ শিবগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে তুলা ব্যবসায়ী নিহত নাচোলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রধান শিক্ষকদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত, ৮৮টি বিদ্যালয়ে ফুটবল বিতরণ যন্তর মন্তরে ককরোচদের নাটকীয় ঝটিকা অভিযান: রাঙ্কা-সৌরভসহ ১৪ জন আটক, পটনায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে তীব্র বিক্ষোভের মুখে ড. মুহাম্মদ ইউনূস: ‘সন্ত্রাসবাদী’ স্লোগান ও আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ঢাকার বজ্রপাত প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় আত্রাইয়ে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে ১ হাজার তাল বীজ রোপণ আত্রাইয়ে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, ৫৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার সুসংগঠিত প্রস্তুতি রাজশাহীতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানালেন রাসিক প্রশাসক

বাগেরহাটে বনায়নের গাছ রক্ষার অযুহাতে সবজি কর্তন ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি

  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শহিদুল্লাহ্ আল আজাদ. খুলনা ব্যুরো…………………………………………………….

বাগেরহাট সদর উপজেলার কোমরপুর এলাকায় ভৈরব নদীর পাড়ে সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষার অযুহাতে শতাধিক কৃষকের বিভিন্ন ধরণের সবজি গাছ কেটে ফেলেছেন প্রতিপক্ষরা। ২৭ শে আগষ্ট রবিবার বিকেলে জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও সদস্য আলতাফ শেখের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন রামদা ও ছুরি নিয়ে এই গাছ কেটেছে। এতে ১০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষকরা।

উক্ত বিষয়ে কৃষকরা জানান, ভৈরব নদীর পশ্চিম পাশে কোমরপুর এলাকায় নিজ মালিকানা ও সরকারি জমি লিজ নিয়ে মৎস্য ঘের করতেন কাটাখালী গ্রামের শতাধিক কৃষক। কয়েক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৈরব নদী খনন করেন। খননের পর থেকে মৎস্য ঘের সংলগ্ন নদীর তীরে কৃষকরা নানা রকম সবজির আবাদ করতেন তারা। ২০২০-২১ অর্থ বছরে সামাজিক বন বিভাগ এই নদীর পাড়ে ২০ হাজার ফলজ ও বনজ গাছ রোপন করে। বনায়নের পরেও সামাজিক বন বিভাগের অনুমতিতে প্রায় ৫ কিলোমিটার বাঁধের উপর স্থানীয় কৃষকরা ঢেড়স, লাউ, করল্লা, ডাটা, বরবটি, লাফা, সিম, ধুন্দলসহ নানা ধরণের সবজি চাষ করেন। কিন্তু জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও তার সদস্যরা কৃষকদেরকে গাছ লাগাতে নিষেধ করতেন। তাদের নিষেধ না মানায় সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিকের নেতৃত্বে কৃষকদের সব গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। অশোক কুমার ভৌমিকের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন কৃষকরা।

উক্ত বিষয়ে কৃষক শেখ এনায়েত বলেন, বন বিভাগের অনুমতি স্বাপেক্ষে নিজেদের মৎস্য ঘের সংলগ্ন ভৈরব নদীর তীরে ঢেড়স, লাউ, করল্লা, ডাটা, বরবটি, লাফা, সিম, ধুন্দলসহ নানা ধরণের সবজি লাগিয়েছিলাম। কিন্তু গাছ রক্ষার অজুহাতে জেএমকে সামাজিক বনায়ন সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক ও তার লোকজন আমাদের গাছগুলো কেঠে ফেলেছে। আমার ঘেরের চকিঘরও (বাসা) ভেঙ্গে ফেলেছে তারা। মূলত গাছ রক্ষা তাদের মূল উদ্দেশ্য নয়, আমরা যাতে সবজি এবং ঘেরে মাছ চাষ না করতে পারি এজন্য তারা এটা করেছে। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।

জামিলা বেগম নামের এক নারী কৃষক বলেন, সবজি লাগিয়ে আমরা কিছু আয় করতাম। কিন্তু অশোক কুমার ভৌমিকের তা সহ্য হয়নি। এ কারণেই তারা আমাদের সবজি গাছ কেটে ফেলেছে। অবসর প্রাপ্ত সেনা সদস্য কৃষক মোঃ কাওছার আলী মোড়ল বলেন, বেশিরভাগ গাছে ফুল এসেছিল, ফলও হয়েছিল কিছু গাছে কেটে আমাদের শেষ করে দিয়েছে। কৃষকদের ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শেখ নজরুল ইসলাম নামের এক কৃষক বলেন, ফলন্ত গাছ কাটায় যে কষ্ট পেয়েছি, আমার গলা কেটে ফেললেও এত কষ্ট পেতাম না। সঞ্জয় নন্দি নামের আরেক কৃষক বলেন, বন বিভাগ লাগিয়েছে ফলজ ও বনজ গাছ। আমাদের সবজি গাছ তাদের গাছের কোন ক্ষতি করেনি। কিন্তু আমাদের গাছ কাটল কেন। তাছাড়া বন বিভাগ তো আমাদেরকে সবজি চাষ করতে নিষেধ করেনি। ভৈরব নদীর তীরে করা এই বনায়ন পাহাড়া দেওয়ার জন্য সামাজিক বন বিভাগের পক্ষ থেকে রুহুল আমিন ও সোবহান শেখ নামের দুই পাহাড়াদার রয়েছেন। গাছ কাটার বিষয়ে তাদেরকেও কিছু বলা হয়নি বলে জানান রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে গাছ পাহাড়া দেই। সমিতির লোকজন সবজি গাছ কাটবে এটা আমাকে বলেনি। বারুইপাড়া ইউনিয়নের ৫ নং (কাটাখালি) ওয়ার্ডের সদস্য আবু সাইদ বলেন, গাছ কাটায় কাটাখালী এলাকার শতাধিক কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তদন্তপূর্বক দোষীদের বের করে শাস্তি এবং কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি করছি।

উক্ত বিষয়ে সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ভৌমিক বলেন, বন বিভাগের নির্দেশে আমরা সবজি গাছ কেটেছি। গাছ রক্ষার জন্যই এই গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি, তবে বন বিভাগ বলছে, কৃষকদের সবজি ও ফসল কাটতে কাউকে বলা হয়নি। সমিতির সভাপতি নিজের ইচ্ছায় এই গাছ কেটেছে।

সামাজিক বন বিভাগ বাগেরহাটের ষাটগম্বউজ এসএফএনটিসি এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চিন্ময় মধু বলেন, কৃষকদের সবজি কাটতে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে গাছ কাটার একটি খবর পেয়েছি। দুই পক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে বলে জানান তিনি।#

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট