মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রায় কোটি টাকা মুল্যের সরকারি খাস সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। গোদাগাড়ী উপজেলার ২৩০ নম্বর মোহরাপুর মৌজার আরএস ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত হাল ৫৭ ও ৫৮ নম্বর দাগের পুকুর ও পুকুরপাড়ে গ্রামের মানুষের চলাচলের রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, প্রভাবশালী দুরুল হুদা অবৈধভাবে আরসিসি পিলার দিয়ে বহুতল ভবনের ভিতের ওপর একতলা বিশিষ্ট পাকা বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
অন্যদিকে এই বাড়ি নির্মাণে উপজেলা প্রশাসন বা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কোনো অনুমতি বা নকশার অনুমোদন নেয়া হয়নি। এ ঘটনায় বিগত ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর গ্রামবাসির পক্ষে তরিকুল ইসলাম বাদি হয়ে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করতে আবেদন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে গড়িমসি করা হচ্ছে।এতে গ্রামবাসির মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রশ্নবিদ্ধ ভুমিকায় জনমনে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে, উঠেছে সমালোচনার ঝড়,বইছে নানা মুখরুচোক গুঞ্জন। স্থানীয়রা বলছে, এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে,তার দেখাদেখি অন্যরাও সরকারি সম্পদ দখলে উৎসাহী হয়ে উঠবে। তারা বলেন, দুরুলের অবৈধ বাড়ি দ্রত উচ্ছেদ করা না হলে তারাও সেখানে বাড়ি নির্মাণ মুরু করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামবাসির অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি সরেজমিন তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি), গোদাগাড়ীকে নির্দেশ দেন। তদন্তে সরকারি সম্পত্তি দখলের প্রমাণ মেলে এবং পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় কেস নথি প্রস্তুত করা হয়। এরপর ২০২২ সালের ২৮ জুলাই গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও উচ্ছেদ সংক্রান্ত কেস নথি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। এমতাবস্থায় ২০২২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) বরাবর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের সুপারিশ করেন। কিন্ত্ত অজ্ঞাত কারণে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও উচ্ছেদের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়নি। যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক গ্রামবাসী বলেন, প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তা বড় অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি খাস সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রাখায় চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা দ্রুত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দুরুল হুদা বলেন,তার বাড়ি সরকারি খাস জায়গায় এটা সত্য,তবে তিনি একা নন আরো অনেকে বাড়ি করে আছে,কিন্ত্ত প্রতিপক্ষ শুধু তার বাড়ি নিয়ে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন,ভুমি অফিসের নায়েব সাহেবের সঙ্গে তার কথা হয়েছে উনি সব ঠিক করে দিবেন বলে বলেছেন।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আবুল হায়াত বলেন, এবিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।#