
পরিযায়ী পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণ, শিকার ও পাচার বন্ধ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে রাজশাহীতে পালিত হয়েছে বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরাম এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর যৌথ আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে আজ শনিবার সকাল ১১:০০ ঘটিকায় পদ্মা গার্ডেন সংলগ্ন রাজশাহী আধুনিক পাঠাগারে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক প্রকৌ. জুনায়েদ আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ:
মোঃ জামাত খান (সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ)
মোসাঃ সেলিনা বেগম (সাধারণ সম্পাদক, বাপা রাজশাহী জেলা কমিটি)
মোঃ মিজানুর রহমান (সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন)
অধ্যাপক ডাঃ বিকে দাম (সভাপতি, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফোরাম)
মোঃ শামসুজ্জোহা সরকার (সাধারণ সম্পাদক, দুঃস্থ মানবকল্যাণ সংস্থা)
মোসাঃ রহিমা বেগম (সভাপতি, বাপা পবা উপজেলা শাখা)
মোঃ ইউসুফ আলী চৌধুরী (সাধারণ সম্পাদক, বাপা পবা উপজেলা শাখা)
আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন:
খাদ্যশৃঙ্খল ও ভারসাম্য: পরিযায়ী পাখি পরিবেশের খাদ্য শৃঙ্খল ও খাদ্যজাল স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে।
কৃষি ও ফসল সুরক্ষা: এরা ক্ষতিকর ইঁদুর ও অন্যান্য কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে।
বায়োলজিক্যাল ইন্ডিকেটর: পাখি প্রকৃতির পরিবেশগত সুস্থতার মূল সূচক হিসেবে কাজ করে।
পরাগায়ন ও সৌন্দর্য: ফুলের পরাগায়নে এদের অবদান অপরিসীম, পাশাপাশি পাখির নান্দনিক সৌন্দর্য মানুষের মনকে আনন্দিত করে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, “পাখি প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। এদের সংরক্ষণ করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।” একই সাথে সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে পাখি শিকারীদের প্রতিহত করার জোর আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভা শেষে পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণ ও সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিতে পদ্মার তীরবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।#