
মোঃ মুক্তাদির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: দেশ ও সমাজের কল্যাণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বালীগাঁও বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সভাপতি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলাম (৭৫) চিকিৎসাধীন অবস্থায় উত্তরার একটি আধুনিক হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন এমপি মিলন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করে এমপি ফজলুল হক মিলন বলেন:
“বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর অবদান এবং দেশ ও সমাজের কল্যাণে তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবী ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সিরাজুল ইসলামের মতো একজন গুণী ও প্রবীণ মানুষের প্রয়াণে কালীগঞ্জবাসী এক অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্বকে হারাল। এই শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—তিনি যেন শোকাহত পরিবারকে এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন।”
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর বালীগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামকে রাষ্ট্রীয় সম্মান ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
গার্ড অব অনার ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম। পরবর্তীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণেই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে কালীগঞ্জ পৌর গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে, নাতি-নাতনিসহ বহু আত্মীয়-স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিরাজুল ইসলামের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। শোক প্রকাশকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, কালীগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. লুৎফর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম ও মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আনোয়ারুল হক বাচ্চু, জামালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. হারুন অর রশিদ দেওয়ান, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ইব্রাহিম প্রধান, সদস্য সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আশরাফ নেওয়াজ চৌধুরী শাওন।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা: উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার।
সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ: কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলামিন দেওয়ান আল আবেদী ও সদস্য পনির খন্দকার; কালীগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ রফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুক্তাদির হোসেন, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ও সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মোঃ শাহনেওয়াজ; এবং কালীগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল হক (শিশির)।#