
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বারাইন নদীর তীর থেকে শাহরিয়ার নাফিজ নিশান (১৯) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উপজেলার বাগমারা গ্রামসংলগ্ন বারাইন নদীর তীরে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। নদীপাড়ে যুবকের মরদেহ মেলার এ ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত শাহরিয়ার নাফিজ নিশান উপজেলার বাগমারা গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার নদীর তীরে এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিক বাগমারা থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। তবে এ সময় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানোর বিষয়ে নিহতের পরিবার থেকে প্রথমে কিছুটা আপত্তি জানানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা ময়নাতদন্তের আইনি প্রয়োজনীয়তা বুঝিয়ে বললে স্বজনেরা সম্মত হন। এরপর পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
এদিকে শাহরিয়ার নাফিজ নিশানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। এটি স্বাভাবিক মৃত্যু, কোনো দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে নানা প্রশ্ন থাকলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করি। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠাতে কিছুটা অনিচ্ছা দেখালেও পরবর্তীতে তাদের বুঝিয়ে সম্মত করানো হয় এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফল হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
চাঞ্চল্যকর এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।#