
জিয়াউল কবীর: মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার অপরাধ কার্যকরভাবে মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, দ্রুতই একজন অতিরিক্ত আইজিপির (অ্যাডিশনাল আইজিপি) নেতৃত্বে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হবে।
দক্ষ মানবসম্পদ ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা বর্তমানে আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্সে অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়েই এই বিশেষায়িত ইউনিট গঠন করা হবে। এতদিন মূলত সিআইডি (CID) এবং ডিএমপি (DMP) সাময়িকভাবে সাইবার অপরাধের তদন্ত করে আসছিল। তবে দিন দিন সাইবার ট্রাইমের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি বিশেষায়িত স্থায়ী কাঠামোর গুরুত্ব দেখা দেয়। কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা প্রদানে প্রয়োজনে বিদেশি প্রশিক্ষক আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের মানোন্নয়নে অন্যান্য মূল সিদ্ধান্তসমূহ:
পদোন্নতির শর্ত: পুলিশ স্টাফ কলেজের বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা পদোন্নতি ও পদায়নের প্রধান শর্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবন: পিএসসিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গবেষণা ও উদ্ভাবন সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
উচ্চশিক্ষা: ‘ফরেনসিক সায়েন্স’ ও ‘ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম’ বিষযয়ে স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ: সার্কভুক্ত দেশসমূহ এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ অ্যাকাডেমি সংস্থার (INTERPA) অধীনে দেশ-বিদেশে প্রশিক্ষণ জোরদার করা হবে।
উক্ত সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্টাফ কলেজ ক্যাম্পাস সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।#