# ফারুক নয়ন, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি:
রংপুরের বদরগঞ্জে বিএনপি ও যুবদলের আট নেতাকে বহিষ্কার করেছে দলটি। এতে জনমনে স্বস্তি সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থি অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য রংপুর জেলা বিএনপি ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ আলী সরকার, রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য ও বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিক, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক শহিদুল হক মানিক, উপজেলার মধুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক, কালুপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল হক ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়াকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
অপরদিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কারাদেশে একই অভিযোগে বদরগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমদাদুল কয়েল ও পৌর যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক সুমন সরদারকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদ সহ সকল পথ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিষ্কারের খবর শুনে বদরগঞ্জ পৌর শহরে জনগণের মাঝে স্বস্তির দেখা দিয়েছে। দোকানদার আনারুল পথচারী আব্দুর রাজ্জাক ও মমিনুল হক জানান, মোহাম্মদ আলী সরকার ও মানিক চেয়ারম্যানের কারণে বদরগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তারা নানান অজুহাতে একে অপরের প্রতি কাঁদা ছোড়াছুড়ির পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কথা বলতো। বিএনপি তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করায় বদরগঞ্জবাসী খুশি হয়েছে। এখন আমরা শান্তিতে থাকতে পারবো।
এ বিষয়ে বদরগঞ্জ পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক অধ্যাপক আজিজুল হক ও সদস্য সচিব কমল নোহানি আমার দেশকে জানান, গঠনতন্ত্র বিরোধী কাজ করায় কেন্দ্র বিএনপি’র পক্ষ থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নেতৃবৃন্দ সঠিক কাজ করেছেন। দলের সিদ্ধান্তকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কারণ তাদের কার্যকলাপের জন্য বিএনপির নেতাকর্মী শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নেতৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের স্থায়ীভাবেই বহিষ্কার করায় দলের সুনাম ফিরিয়ে আসলো বলে তারা জানান।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল বুধবার বদরগঞ্জের স্থানীয় ব্যবসায়ী জাইদুল হকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিএনপি নেতা সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজন হামলা ভাঙচুর লুটপাট চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিএনপির অপর নেতা কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক শনিবার (৫) এপ্রিল ব্যবসায়ীদের নিয়ে হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট এর বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করেন। বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে মোহাম্মদ আলী সরকার ও কালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিক পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সাংবাদিকসহ উভয়পক্ষের ২০ জন আহত হয় এবং লাভলু মিয়া (৫০) নামে মোহাম্মদ আলী সরকারের এক সমর্থক মারা যান। #