
জিয়াউল কবীর: একই জমির দখল পুনরুদ্ধারে একাধিক আইনি প্রক্রিয়ায় বিধিনিষেধ থাকলেও নতুন অপরাধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। জমি নিয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ যদি নতুন করে জাল দলিল তৈরি করে, প্রতারণার মাধ্যমে জমি হস্তান্তরের চেষ্টা করে কিংবা আইনবহির্ভূতভাবে দখলচ্যুত করে, তবে নতুন করে ভূমি অপরাধের অভিযোগ করা সম্ভব।
অনেকের ধারণা, জমি নিয়ে দেওয়ানি মামলা চললে ওই জমির বিষয়ে আর কোনো ফৌজদারি বা প্রশাসনিক প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না। কিন্তু আইন সে কথা বলে না।
ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, দেওয়ানি মামলা চলমান থাকলেই ভূমিসংক্রান্ত নতুন অপরাধের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায় না। তবে একই জমির দখল পুনরুদ্ধারের বিষয়ে দেওয়ানি আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকলে একই বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পৃথকভাবে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং আইনে আদালতের মাধ্যমে মামলাটি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জাল দলিল ও ভূমি প্রতারণায় সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
আইনের ৪ ধারায় ভূমি প্রতারণাসংক্রান্ত অপরাধ ও ৫ ধারায় ভূমি জালিয়াতির অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে কোনো দলিল নিয়ে বিরোধ বা তথ্যের অমিল থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জালিয়াতি প্রমাণিত হয় না; অপরাধের উদ্দেশ্য ও প্রমাণ যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
জবরদখল ও উচ্ছেদের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার
আইনের ৭ ও ১০ ধারায় অবৈধ দখল প্রতিরোধ, সীমানা নষ্ট বা ফসল-গাছপালা ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে দখলচ্যুত করা যাবে না।
দেওয়ানি মামলা চললে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন
আইনের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া কেউ দখলচ্যুত হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করা যাবে। আবেদন পাওয়ার পর তিন মাসের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে।#