
মোহাঃ সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদাতাঃ দামে চাঙ্গা হয়েছে কানসাটের আম বাজার। আম চাষীরা মনের দিক কিছুটা স্বস্তি পেলেও খাজনা বেশী,ওজনে বেশী ও দালালদের দৌরাত্বে চাষীরা হতাশ। গতকাল ও আজ আমের দর আগের ১০/১২ দিনের চেয়ে চাঙ্গা হলেও ৫৬/৫৬ কেজিতে মণ ও একাধিক স্থানে খাজনা আদায় ও জানজোটের ভোগান্তিতে অস্থির আম চাষীরা।
সরজমিনে আম বাজার ঘুরে আম চাষী, ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে চাষিরা জানান, এবার ২৫% বেশী খাজনা দিতে হচ্ছে।অনেক ক্ষেত্রে তিনবার পর্যন্ত খাজনা দিতে হচ্ছে খালি ক্যারেটেরও খাজনা দিতে হচ্ছে। তারা জানান গত বছরের তুলনায় এবার অনেক জাতের আমের দাম কম হলেও গত দুই দিন যাবত আমের দাম বেড়েছে।
কানসাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে লক্ষণভোগ, বিভিন্ন ধরনের গুটি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, ব্যানানা, বারি-৪, সূর্যমুখীসহ বিভিন্ন জাতের আমের ভাল দাম পাচ্ছ।গত বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতি মণ গোপালভোগ বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০টাকা,আজকের গোপালভোগ বিক্রী হচ্ছে ২০০০ থেকে ২৫০০,লক্ষ্মণ ভোগ বৃহস্পতিবার বিক্রি হয়েছে ৬৫০ থেকে ৮৫০, গত দুইদিন বেড়ে হয়েছে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা, একইভাবে
ক্ষীরসাপাত ১৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকার স্থলে ৩৫০০থেকে ৪০০০টাকা,লখনা ও ল্যাংড়া ১৫০০ থেকে ২০০০টাকার স্থলে ২৫০০ থেকে ৩০০০,ব্যানানা ৩০০০ টাকার স্থলে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকাএবং রানীপ্রসাদ ১৪০০ টাকার স্থলে ২০০০ থেকে ২২০০,টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ব্যানানো ও কাটিমন প্রায় ৪৫০০থেকে ৫০০০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
শাহাবাজপুর ইউনিয়নের কয়লাবাড়ি গ্রামের মোস্তফা জানান গত দুইদিন থেকে আমের বাজার দর কিছুটা ভাল হলেও আমের উৎপাদন খরচ প্রায় আড়াইগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের মুখ দেখতে পাবো না। কারন ন্যাংড়া ফজলী আশ্বিনা গুঠি,লক্ষণভোগ লখনা,খীরসাপাত প্রভৃতি আমের উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ মণ প্রতি ১৫০০/২০০০ টাকা।ব্যানানো কাটিমন আমের৷ শুরু থেকে পরিবহন খরচ সহ উৎপাদন খরচ প্রায় মণ প্রতি ৪০০০টাকা। তারপর আম চাষী হিসাবে কাজ করি। বাইরে কামলা না খেটে নিজের বাগানে কাজ করি। শিবগঞ্জ এলাকার মিনহাজ উদ্দিন জানান বিঘা প্রতি ২৫০০০ দরে ১০বছরের জন্য ১৮বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আম চাষ করছি। আম ২০০,মণ হবে।দাম পেতে ১০লাখ টাকা। উৎপাদন খরচও প্রায় ১০লাখ টাকা। শান্তনাএইটুকু যে বাইরে কামলা না খেটে নিজ বাগানেই কাজ করি।তবে গত দুইদিনে যে হারে দাম পাচ্ছি,শেষ অবধি এরকম দাম পেলে কয়েক লাখ টাকা লাভ পেতে পার।
কানসাট আম ব্যবসায়ী রায়হান আলী জানান, এ বছর আম বাজারটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা কমে লিজ পেয়েছেন ইজারাদার। অথচ শতকরা ২৫ ভাগ খাজনা আদায় করছেন। কুরিয়ার সার্ভিসে আম বুকিং দিতে গেলেও খাজনা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
কানসাট আম বাজারের ইজারাদার মো. আলমগীর জুয়েল জানান, পুলিশ, আনসার ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ৫০ জন যানজট নিরসন ও চাষিদের আম বাজারে সহজে আনতে কাজ করছেন। অতিরিক্ত কোনো খাজনা নেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কোনো ব্যক্তির কাছে তিনবার খাজনা আদায় বা কুরিয়ারের সামনে কোনো খাজনা আদায় হচ্ছে না।
কানসাট আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান, ঢাকা থেকে খালি ক্যারেট আনলেও এর খাজনা নিচ্ছে। চাষি আম বিক্রির সময় একবার, আড়তে একবার এবং কুরিয়ারে বুকিং দেওয়ার সময় আরও একবার খাজনা নিচ্ছে। আর আমের ভরা মৌসুমে একটি গোষ্ঠী আম কাঁচামাল হওয়ার পরও অযৌক্তিক ৪০ কেজিতে মণ ধরে আম কেনা বেচার আন্দোলনের গ্যাঁড়াকলে ফেলে আম বাজারের পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম জানান, সরকারি রেট মেনে বাজারে তালিকা টেনে ইজারাদার খাজনা আদায় করছে। কুরিয়ারের সামনে বা তিনবার খাজনা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ইজারাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হলেও বাজারে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তবে বর্তমানে আমের দামে কৃষক লোকসানে পড়বে না। আমের রপ্তানিসহ বহুমুখী ব্যবহার বাড়াতে পারলে চাষিরা নায্য মূল্য পাবেন। #