
নাজিম হাসান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি: রাজশাহী পুঠিয়ায় উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে অনেক জমির মালিকে টাকা দিয়ে এবং অন্য মালিকে না বলে জোর পুর্বক ভাবে রাতদিন পুকুর খননের হিড়িক পড়ে গেছে। ফলে আবাদি জমি গুলোতে অবৈধ ভাবে পুকুর খননের মাটি পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামঞ্চলের কোটি কোটি টাকা মূল্যর সড়ক নষ্ট হচ্ছে। পুকুর খনন অব্যাহত রাখলেও স্থানীয় প্রশাসন রহস্যজনক ভাবে নিরব ভুমিকা পালন করছেন। এতে কৃষি জমির পরিমান কমে যাচ্ছে এবং চাষাবাদ হুমকীর মুখে পড়ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন বেশকেছু যায়গা থেকে এস্কেভেটরের (ভেকুর) ব্যাটারি খুলে আনতে দেখা যায়।
উপজেলাজুড়ে প্রায় ১০ টি পুকুর এক সাথে খনন করা হচ্ছে। মাটি পরিবহন করতে গিয়ে গ্রামঞ্চলের কোটি কোটি টাকা মূল্যে সড়ক নষ্ট হচ্ছে। এখনে এস্কেভেটর ও ড্রেজার মেশিনের সংখ্যা শতাধিক হয়েছে, এবং সকাল ৮টার পর থেকে চালু করা হয় ভেকু ও ড্রেজার মেশিন চলে ভোর রাত পর্যন্ত। কয়েক ঘন্টা বন্ধ রেখে আবারো শুরু করা হয় অবৈধ পুকুর খননের কাজ। এতে বর্ষা মওসুমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়বে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এলাকার শত শত বিঘা ফসলি জমি অনাবাদি এবং পাড়া-মহল্লার বাড়ি-ঘরে ডুকে পানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। অপরদিকে, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ রয়েছে জমির প্রকৃতি (শ্রেণী) পরিবর্তন করা যাবে না। কিন্তু অবৈধ পুকুর খননকারিরা উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে ফসলি জমিতে চালিয়ে যাচ্ছে হরদম পুকুর খনন। তবে অনেক কৃষক প্রভাবশালী অবৈধ পুকুর খননকারীদের নাম বলতে ভয় পেতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে এস্কেভেটরের ভেকু ও ড্রেজারের ড্রাইভাররা বলেছেন, আমাদেরকে পুকুর খননকারীরা ঘন্টা প্রতি মাটি খননের জন্য ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। তাই আমরা রাত দিন চব্বিশ ঘন্ট মাটি খনন করি।এবং ভেকু ও ড্রেজার গুলো এখনো চলছে তাহলে আমাদের কি অপরাধ আমরাতো ভাড়াায় কাজকর। ইফসুব,জলিল,সালাম,রহিম বলেন এভাবে অবৈধ পুকুর খনন চলতে থাকলে আমাদের এলাকার কৃষকেরা ও গবাদী পশুর খাদ্যের সংকট দেখা দেবে। এই তিন ফসলি জমি অবৈধ ভাবে পুকুর খনন কারীদের বিরুদ্ধে আমি রাজশাহী জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার,পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সহকারি (ভুমি) কমিশনার বরাবর দরখাস্ত করেছি তাতেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তবে মাঝেমধ্যে উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে পুকুর খননের বিরুদ্ধে জরিমানা আদায় করে স্কেভেটরের (ভেকুর) ব্যাটারি খুলে আনতে দেখা যাচ্ছে। এবং দুই একদিনের ভেতর আবার মোটা অংকের টাকার সমঝোতা করে ব্যাটারি দিয়ে দেওয়া হচ্ছ।
কৃষকদের অভিযোগ প্রভাবশালীদের হাত থেকে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও ফসলি জমিতে নিয়মবর্হিভূত অপরিকল্পিত পুকুর খনন বন্ধের জন্য দফায় দফায় ভুক্তভোগীরা একাধিকবার স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু পুকুর খননকারীরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলছেন,পুকুর খনন বন্ধের জন্য নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।#