1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
কালীগঞ্জের তুমুলিয়ায় খ্রিষ্টান বাড়ীতে ডাকাতি জামায়াত-আমীর ডা.শফিকুর রহমানের-সঙ্গে তারেক রহমানের-সৌজন্য সাক্ষাৎ  জামায়াত এমপির নেতাকর্মীদের মারপিটসহ সৃষ্ট সহিংসতার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন আত্রাইয়ে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়ে এমপি রেজু শেখ: ইসলামী আদর্শে উন্নয়নের অঙ্গীকার চাঁপাইনবাবগঞ্জে বোমা বিস্ফোরণ: বিস্ফোরক আইনে মামলা, গ্রেপ্তার ৫ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি’র এমপি, নির্বাচিত হওয়ায় একে এম ফজলুল হক মিলন কে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় গাজীপুর ৫ আসনের জনসাধারণ নওগাঁর কাশোপাড়ায় আগুনে পুড়ল বসতঘর ও গবাদিপশু লালপুরের মোহরকয়া এলাকায় ৪৮০০ পিস ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী আটক নাটোর-১ আসনে বিএনপির জয়,৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত তারেক রহমানকে খুলনাবাসীর অভিনন্দন হেলালকে পরিবেশ-বন ও জলবায়ু মন্ত্রী দায়িত্ব অর্পণ ‎ ‎

 জামায়াত এমপির নেতাকর্মীদের মারপিটসহ সৃষ্ট সহিংসতার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

৥ স্টাফ রিপোর্টারে,ঈশ্বরদী,পাবনা : জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ধানের শীষের প্রার্থীর নেতাকর্মীরা বিজয়ী জামায়াত এমপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মারপিটসহ নানা সহিংসতার প্রতিবাদে ঈশ্বরদীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা এগারোটায় জামায়াতে ইসলামী পাবনা জেলা শাখার পক্ষ থেকে ভেলুপাড়াস্থ অফিসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন,সদ্য নির্বাচিত পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসরনের এমপি ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করে বলেন,কিন্তু, আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করলাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যারা দীর্ঘ প্রায় দেড়যুগ ক্ষমতাসীনদের দ্বারা আমাদের মতই মজলুম ছিল, ৫ আগস্টের পর সেই মজলুম জালিমরুপে আবির্ভূত হয়েছে। বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা একরাতে হাট-বাজার-ঘাট, টেম্পু- বাস- ট্রাক স্ট্যান্ড, অফিস-আদালত দখল করে চাঁদাবাজী-টেন্ডারবাজীসহ দেশের সকল কিছু দখল, হত্যা, নির্যাতন, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণে রাজনৈতিক পুরনো বন্দোবন্তে ফিরে গেল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশীল ঘোষণা করলো তখন থেকেই বিএনপি জনগণের ভোটাধিকার যা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে ফিরে এসেছিল তা কেড়ে নেয়ার অশুভ পাঁয়তারা শুরু করে। তারা নির্বাচনের পূর্বেই ভোটারদের হুমকি-ধমকি, মার-ধর করে এক চরম ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও দেশ ও জাতির শত্রু ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানের খুনি ও সন্ত্রাসীদের ফিরে এনে আশ্রয় দিয়ে মাঠে নামিয়ে এক ভয়ংকর পরিবেশ তৈরী করে। ফলে, সাধারণ মানুষ ও ভোটারেরা চরমভাবে নিরাপত্তাহীন হয়ে পরে। এই অবস্থার মধ্য দিয়ে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো এবং বহু আসনে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তাদের দলীয় কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সারা দেশে এক নৈরাজ্যকর এবং আইয়ামে জাহেলিয়াতের জুলুমের পরিবেশ সৃষ্টি করে। নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা থেকেই বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা জামায়াত ও ১১ দল মনোনীত ও সমর্থিত এমপি প্রার্থীর নেতা-কর্মী ও ভোটারদের উপর বর্বরোচিত ধর্ষন, নির্যাতন, হামলা, বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দলীয় অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ, যাতায়াত রাস্তা বন্ধ ও অনেকের নিকট চাঁদা দাবী করে ‘যেই লাউ, সেই কদু’ অর্থাৎ পূর্বের জালেমের রূপ ধারন করেছে। জুলাই বিপ্লবের পর নতুন বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে এমন আচরন করবে তা দেশের জনগণের নিকট অগ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও বলেন,অনেক জীবন ও রক্তের বিনিময়ে এবং দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার ফিরে আসার সম্ভাবনা তৈরী হয়। দেশবাসী একটি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সরকার গঠনের আশায় বুক বাঁধে। সেই সাথে অতীতের যে নিকৃষ্টতম কালচার, ক্ষমতাসীনদের দ্বারা বিরোধী পক্ষের নেতা-কর্মীদের উপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, হত্যা, বাড়ি-ঘর ভাঙচুর, অগ্নি সংযোগ, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, দখল, রাজনৈতিক দলের অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ ইত্যাদির অবসান চেয়েছিল। বিপ্লবের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলও একমত হয় যে, দেশের পুরনো কালচার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, অত্যাচার ও নিপীরন বাংলাদেশে আর হবে না। সকল দল এই প্রতিজ্ঞা মেনে চলবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তীতে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেয়ায় ১১ দল ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের উপর বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী কর্তৃক ঈশ্বরদীর চরগড়গড়িতে নির্বাচনের পূর্বেই প্রচার-প্রচারণা চালানোর সময় আমার উপর গুলি চালানো হয়। আমার মহিলা কর্মীদের উপর আক্রমণ, প্রচার কাজে বাধা দেয়া এবং তাদের বোরকা ধবে টানাটানি করা হয়। নির্বাচন পরবর্তী আমার নির্বাচনী এলাকার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ও ছলিমপুর ইউনিয়নে ২ টি দোকান ভাঙচুরসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। দাশুড়িয়া ইউনিয়নে আমার পোলিং এজেন্টদের উপর এবং বাড়িতে আক্রমণ করা হয়েছে। আমার নির্বাচনী এলাকা আটঘরিয়াতে লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বালুঘাটার আলআমিন, একদন্ত ইউনিয়নের বগদি গ্রামের শিবির নেতা সাব্বির এর উপর হামলা ও বাড়ি ভাঙচুর এবং একদন্ত ইউনিয়নের ডেঙ্গার গ্রামের নয়ন এর উপর আক্রমণ করা হয়।

পাবনা সদরে নির্বাচনের ৫ দিন পূর্বে হেমায়েতপুর ৯ নং ওয়ার্ড এর বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজান আলীকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। সে বর্তমানে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। ঘটনার মামলায় আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় নির্বাচনের দিন ও নির্বাচন পরবর্তীতে এলাকায় বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, ব্যাক্তি আক্রমণসহ ভয়-ভীতি ও মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দেয়া হচ্ছে।

সদর উপজেলায় নির্বাচন পরবর্তীতে গয়েশপুর ইউনিয়নের জোতগড়ি জালালপুরের জামায়াত নেতা আবু সাইদকে চাকু মারা হয়েছে সে এখনও পাবনা সদর হাসপাতালে চিতিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে, আব্দুস সালামকে হত্যার হুমকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করেছে। দোগাছী ইউনিয়নের দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর বাংলাবাজার জামায়াত নেতা আইয়ুব আলী খান এর বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হয়। রাণীনগর গ্রামের সাতটি বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। সদিরাজপুর মোঃ জহুরুল ইসলামকে আক্রমণ করে আহত করে। সে এখন পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। আতাইকুলার শিমুলচরায় জামায়াত কর্মী ফারুক ও আনিসের বাড়িসহ অনেকগুলো ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। সেখানে আমাদের কয়েকজন ভাই আহত হয়েছে। হিমায়েতপুরের শানিরদিয়ার জামায়াতের সহ-সভাপতি মোঃ খলিলুর রহমানের দুই ছেলেকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে নিয়ামতুল্লাপুরে অফিস ও বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওঃ হাফিজুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর করা হয়েছে এবং নাজিরপুর গ্রামের জামায়াত নেতা সুজন ও মনিরুল ইসলামের উপর আক্রমণ করে গুরুতর জখম করে।

বাহাদুরপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের বাড়িতে গিয়ে ৩ লক্ষ টাকার চাঁন্দা দাবি করে। মালিগাছার ধরবিলা খোন্দকারপাড়া জামে মসজিদের ইমামকে নামাজরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বের করে দিয়েছে। ভাঁড়ারা ইউনিয়নে সাবেক সচিবের বাড়িসহ ইয়াসিন আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। পাবনা পৌরসভা ১৪ নং ওয়ার্ডের বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী সবুজ এর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। আতাইকুলার মহিলা জামায়াতের কর্মী হাফসা খাতুন ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত কুয়া সদস্যা জয়ীতা খাতুনের বাড়িতে কক্টেল নিক্ষেপ করা হয়। চাটমোহর উপজেলায় হরিপুর ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে হামলা চালিয়ে ৩ জনকে গুরুতর আহত করে তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। সুজানগরে বিভিন্ন ইউনিয়নে আক্রমণ করে ৬ জন কর্মীকে গুরুতর আহত করে, তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। সাঁথিয়া উপজেলার ধুলাউড়িতে জামায়াত কর্মীর বাড়িতে আক্রমণ করা হয়। উপরোক্ত ঘটনাবলী সুস্থ্য রাজনীতি ও দেশের সকল নাগরিককে নিয়ে সুন্দর দেশ গঠনের চরম অন্তরায়। দেশের জনগণ দ্রুত এই অবস্থার অবসান চায়।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনাদের মাধ্যমে আমরা পাবনাবাসীসহ দেশবাসীর সামনে এ সকল ঘটনা তুলে ধরলাম। আশা করছি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনসহ বিএনপির হাই কমান্ডের নিকট এ সকল ঘটনা পৌঁছে যাবে এবং এধরনের একতরফা সহিংসতা বন্ধে তারা কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পরিশেষে আপনাদের মাধ্যমে আমি আমার নির্বাচনী এলাকা পাবনা-৪ ঈশ্বরদী- আটঘরিয়াবাসীকে কৃতজ্ঞতা জানাই সেই সাথে পাবনার ৫ টি আসনের মধ্যে ৩ আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীকে এমপি পদে জয়যুক্ত করায় সংশ্লিষ্ট আসনের সর্বস্তরের জনসাধরণসহ সমগ্র পাবনাবাসীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। #

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট