
স্টাফ রিপোর্টার,ঈশ্বরদী,পাবনাঃ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাবনা-৪(ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) নির্বাচনী এলাকায় বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। হেভিওয়েট প্রার্থীদের ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাসে এই জনপদ এখন সরগরম। প্রচার-প্রচারণার শুরুতেই নির্বাচনী মাঠের চিত্রমতে পাল্টে যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ। বিশেষ করে জামায়াত ইসলামীর অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব এবং বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টুর অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরণের ধোঁয়াশা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
নির্বাচনী ময়দানে পৃথক তিন ’ শক্তির লড়াই শুরু হয়েছে। গত তিন দিনের প্রচার-প্রচারণায় দেখা গেছে, তিন হেভিওয়েট প্রার্থীই সমানতালে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। তাদের কৌশলী পদচারণায় ভোটারদের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে । জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লার অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী নিয়ে নিরবে অত্যন্ত শক্তভাবে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। লিফলেট বিতরণ এবং ছোট ছোট পথসভা ও গণসংযোগের মাধ্যমে তিনি তার অবস্থান জানান দিচ্ছেন।

বিএনপি মনোনীত হাবিবুর রহমান হাবিব ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মাঠে আছেন। দলের মূল স্রোতের সমর্থন নিয়ে ধানের শীষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। দিনরাত গণসংযোগ, লিপলেট বিতরণ ও দোয়া মাহফিলসহ ছোট ছোট সভা করে বিজয়ের চেষ্টা করছেন।প্রার্থী হয়ে তিনি মাঠে লড়াইয়ে অংশ নিলেও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের নেতাকমীরাই বিএনপির মূল স্রোতের সদস্য বলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দাবি করা হচ্ছে । ব্যাপক জনসমাগম এবং পুরনো কর্মীদের নিয়ে তিনি মাঠ ধরে রেখেছেন।
মোটরসাইকেল প্রতিকের জাকারিয়া পিন্টু বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চমক সৃষ্টি করেছেন। বিএনপির একটি বড় অংশ এবং তরুণ ভোটারদের মাঝে মোটরসাইকেল প্রতীকের জোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী হলেও তার জনপ্রিয়তা মূল প্রার্থীদের ভাবিয়ে তুলছে। ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি ও সংশয় অন্যান্য বারের তুলনায় অনেক বেশী । এবারের নির্বাচনী কৌশল ভিন্ন হওয়ায় সাধারণ ভোটাররা দোটানায় পড়েছেন। বিশেষ করে বিএনপির ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেক সমর্থকই দ্বিধাগ্রস্ত।

ভোটারদের মন্তব্য, “তিনজনই জনপ্রিয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে হাসবেন শেষ হাসি, তা বলা কঠিন। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারি নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে আইনশৃংখলা বাহিনী সূত্রে জানাগেছে।#