মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন, বিশেষ প্রতিনিধি:
বকেয়া টাকা পরিশোধ না করায় পেট্রলপাম্প কর্তৃপক্ষ বাকিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। ফলে রাজশাহীর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রায় সাতদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। হাসপাতালের সামনে সেবা বন্ধের নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ থাকায় সামর্থ্যবান রোগীরা অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করলেও, দরিদ্র রোগীরা উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে পারছেন না। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসে এই ৫০ শয্যার হাসপাতালে। সঠিক চিকিৎসার অভাবে নিয়মিত রোগীদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।
তানোর পৌর এলাকার বাসিন্দা শাকিল জানান, তিনি তাঁর অসুস্থ চাচিকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বন্ধ থাকায় চারগুণ বেশি ভাড়ায় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিতে বাধ্য হন।
তালন্দ ইউনিয়নের সোহেল রানা বলেন, “আমার ছোট ভাইকে রাজশাহী মেডিকেলে নিতে দেড় হাজার টাকা দিয়ে মাইক্রোবাস ভাড়া করতে হয়েছে, যা সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চেয়ে অনেক বেশি। তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক আবদুস সালাম জানান, পেট্রলপাম্পে হাসপাতালের প্রায় ১০ লাখ টাকা বকেয়া থাকায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
সাধারণত তানোর থেকে রাজশাহীর জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ৬০০ টাকা, যেখানে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া ১,৫০০-২,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদা জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ রয়েছে। অর্থ বরাদ্দের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, তবে বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত সেবা চালু করা সম্ভব নয়।
রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবা খাতুন জানান, তানোরসহ কিছু উপজেলায় একই সমস্যা হয়েছে। দ্রুত তেলের বরাদ্দ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সরকারি বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত তানোর উপজেলার ৫-৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একমাত্র ভরসা বিকল্প ব্যবস্থাপনা, যা রোগীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।#