1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ন
সর্বশেষ:
শিবগঞ্জে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত আত্রাইয়ে জামায়াতের জনসমাবেশ, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট চাইলেন খবিরুল ইসলাম আত্রাইয়ে আগাম আমের মুকুল, চাষিদের মাঝে আশার আলো নওগাঁর রাণীনগরে হাতপাখার প্রার্থীর গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্যাপকলের পানি নেয়কে কেন্দ্র করে পিটিয়ে হত্যা বাঘায় ব্যতিক্রম আয়োজনে ‘পিঠা-পুলি’র উৎসব মির্জাপুরে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পাহাড়ি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ হবে: আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অপমৃত্যু: বিবেকের কাঠগড়ায় আমাদের সংস্কৃতি রূপসায় ইজিবাইকের ধাক্কায় শিশু কন্যা নিহত কালীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর জাসাসের আহ্বায়ক কমিটির নির্বাচনী বর্ধিত সভা 

রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অপমৃত্যু: বিবেকের কাঠগড়ায় আমাদের সংস্কৃতি

  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

____ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম৥

​ভূমিকা: ​রাজনীতি হওয়ার কথা ছিল ত্যাগের এবং সুমহান আদর্শের এক পাদপীঠ। কিন্তু আজ রাজপথের ধুলোবালি ছাপিয়ে যে শব্দগুলো আমাদের কানে আছড়ে পড়ছে, তা কোনো আদর্শের বাণী নয়, বরং তা এক বীভৎস অবক্ষয়ের আর্তনাদ। যখন একটি দলের নীতিনির্ধারক বা মহাসচিবের মতো জ্যেষ্ঠ ব্যক্তিত্বকে লক্ষ্য করে তারই দলের কর্মীরা ‘জুতা মারার’ মতো ধৃষ্টতাপূর্ণ স্লোগান দেয়, তখন বুঝতে হবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেওয়া হয়েছে। এই দৃশ্য কেবল একজন ব্যক্তির অপমান নয়, বরং এটি একটি জাতির বিবেক ও মূল্যবোধের চরম পরাজয়। ​

আবেগের চাদরে ঢাকা রূঢ় বাস্তবতা ​মনোনয়ন বা ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব যখন নেতার সম্মানের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই রাজনীতি আর দেশসেবার হাতিয়ার থাকে না; তা পরিণত হয় এক নগ্ন ক্ষমতার লড়াইয়ে। রাজবাড়ীর সেই রাজপথে সেদিন যা ঘটেছে, তা শুধু রাজনৈতিক প্রতিবাদ ছিল না; তা ছিল দীর্ঘদিনের লালিত সৌজন্যবোধের এক নিদারুণ অপমৃত্যু। যে নেতার আহ্বানে কর্মীরা এক সময় রাজপথ কাঁপাত, আজ সেই নেতার প্রতি এমন অশ্রাব্য গালিগালাজ প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে ‘ব্যক্তিগত স্বার্থ’ এখন ‘আদর্শের’ চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। ​আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও জাতীয় লজ্জা ​বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে আমাদের ঘরের খবর মুহূর্তেই পৌঁছে যায় বিশ্ব দরবারে। যখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল বা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলো দেখে যে, একটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কর্মীরা তাদের খোদ অভিভাবক বা মহাসচিবের প্রতি এমন অসভ্য আচরণ করছে, তখন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিপক্কতা নিয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা যায়। এটি আমাদের জাতীয় ভাবমূর্তিকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করছে।

একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদের সম্মান রক্ষা করতে না পারা একটি জাতির জন্য আন্তর্জাতিক বলয়ে লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ​নেতৃত্বের দায়বদ্ধতা ও বিহিতের দাবি ​এই চরম বিশৃঙ্খল অবস্থায় দলের চেয়ারম্যান মহোদয়ের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। বিবেকবান নাগরিক সমাজ মনে করে, এই অনিয়মের যথাযথ বিহিত হওয়া অত্যাবশ্যক। ​যারা প্রকাশ্যে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। ​দলের ভেতর থেকে এমন সুবিধাবাদী ও উগ্র কর্মীদের চিহ্নিত করা জরুরি, যারা পদের লোভে আদর্শকে বিসর্জন দিতে দ্বিধা করে না। ​নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ফিরিয়ে আনতে না পারলে কোনো দলই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।

​উপসংহার: ​সময় এসেছে আয়নার সামনে দাঁড়ানোর। রাজনীতিতে পক্ষ-বিপক্ষ থাকবে, মতের অমিল হবে হিমালয় সমান—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই ভিন্নমত প্রকাশের ভাষা যখন রাস্তার চটুল গালিগালাজে রূপ নেয়, তখন আমাদের পূর্বসূরিদের লড়াই আর আত্মত্যাগের ইতিহাস লজ্জিত হয়। আমরা এমন এক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে রাজনীতি হবে যুক্তির ও সম্মানের, ঘৃণার নয়। দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের বলিষ্ঠ পদক্ষেপই পারে এই পচনশীল সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করতে!#

… লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট