প্রতীকী ছবি
মোঃ মমিনুল ইসলাম মুন বিশেষ প্রতিনিধি : রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাকনহাট এলাকার ‘নাবা ফার্ম’-এর মুরগির লিটারের বর্জ্য (বিষ্ঠা) প্রতিনিয়ত গভীর রাতে ফেলে যাচ্ছে তানোর উপজেলার মাড়িয়া জোকারপাড়া গ্রামের লিজকৃত পুকুরে। এতে এলাকাজুড়ে ছড়াচ্ছে মারাত্মক দুর্গন্ধ, মারা যাচ্ছে পুকুরের মাছ, এবং দূষিত পানির কারণে চাষাবাদ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নাবিল গ্রুপের লোকজন রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে কোম্পানির নিজস্ব ড্রাম ট্রাক (রেজি. নম্বর: রাজ মেট্রো-উ ১১-০০২৯) ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে এসব বর্জ্য ফেলে পালিয়ে যায়। দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় এলাকার জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
মাড়িয়া জোকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, পুকুরের এই পানি তারা সেচ, রান্না ও গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করতেন। এখন পানির দূষণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না। পুকুরের মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে, এবং জমিতে সেই পানি ব্যবহার করে কোনো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। এই অবস্থায় স্থানীয় ২ নম্বর বাধাইড় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসগার আলী রাজশাহী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয়রা এসব ড্রাম ট্রাক আটকালে কোম্পানির লোকজন তাদের নানা রকম হুমকি প্রদান করে। গত বুধবার রাতে এমন দুটি ট্রাক তানোরের ব্রুরুজ এলাকায় আটক করে জনসাধারণ পুলিশের হাতে তুলে দেয়। তবে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ট্রাকচালকদের থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন, শর্ত ছিল– ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের বর্জ্য আর ফেলবে না।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নাবিল গ্রুপের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন এবং কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।#