বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক জিয়া
__ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম
ভূমিকা: বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে, যেখানে জনমানুষের প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় ধরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থবিরতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণের ফলে জনগণের মধ্যে এক ধরনের রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানুষ কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং গুণগত পরিবর্তনের প্রত্যাশী। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রামের উত্তরাধিকার হিসেবে তারেক রহমানের ওপর জনগণের যে আস্থা, তা একদিকে যেমন সম্মানের, অন্যদিকে এক বিশাল দায়িত্বের স্মারক। গণতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও সুশাসন বিগত বছরগুলোতে সাধারণ মানুষ ভোটাধিকার ও বাকস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত ছিল। তাই জনগণের প্রথম এবং প্রধান দাবি হলো একটি কার্যকর ও টেকসই গণতন্ত্র।
চাঁদাবাজি নির্মূল: বর্তমানে ‘চাঁদাবাজি’ একটি সামাজিক ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দেশের অর্থনীতি ও ছোট ব্যবসায়ীদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের সরকারকে প্রথমেই এই অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে।
স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি মুক্ত প্রশাসন: সুশাসন কায়েমের প্রধান অন্তরায় হলো স্বজনপ্রীতি। সরকারি নিয়োগ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে মেধার মূল্যায়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জনগণের প্রাণের দাবি। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। এই সংকট নিরসনে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য:
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন: সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত একটি বাস্তবমুখী পে-স্কেল ঘোষণা করা প্রয়োজন। বেকারত্ব দূরীকরণ: দেশের বিশাল শিক্ষিত ও দক্ষ তরুণ সমাজ আজ কর্মসংস্থানের অভাবে দিশেহারা। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে বৈপ্লবিক পদক্ষেপ নিতে হবে। উত্তরাধিকারের গৌরব ও ব্যক্তিগত নেতৃত্বের ওজন তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান একটি ত্রিভুজাকৃতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে।
পিতা জিয়াউর রহমান: যার উন্নয়নের রাজনীতি ও সততা আজও মানুষের মনে গেঁথে আছে।
মাতা খালেদা জিয়া: যার আপসহীন নেত্রী হিসেবে ইমেজ দল ও মত নির্বিশেষে সবার কাছে শ্রদ্ধার।
নিজস্ব গুণাবলি: গত দেড় দশকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রূপরেখা (যেমন: ৩১ দফা) প্রণয়নে তার প্রজ্ঞা তাকে স্বতন্ত্র পরিচিতি দিয়েছে। এই তিন শক্তির সমন্বয়ে তার রাজনৈতিক ‘ওজন’ ও দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। পরামর্শক মহলের মতে, এই তিন উত্তরাধিকারের সম্মান রক্ষা করা এবং জনগণের আস্থার প্রতিদান দেওয়াই হবে তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
উপসংহার: জনগণের প্রত্যাশা যখন আকাশচুম্বী হয়, তখন সামান্য বিচ্যুতিও বড় অভিঘাত তৈরি করতে পারে। তারেক রহমানকে মনে রাখতে হবে যে, এই ভালোবাসা কেবল আবেগ নয়, এটি একটি দায়বদ্ধতা। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, স্বজনপ্রীতি ও পেশিশক্তির উর্ধ্বে উঠে তিনি যদি একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গঠন করতে পারেন, তবেই জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকার সার্থকতা পাবে। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনরায় গণতন্ত্রের সুবাতাস পাবে এবং একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ.!
… লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক