
বিশেষ প্রতিনিধি: একদিন পরেই শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবকে ঘিরে এখন চরম ব্যস্ততা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পালপাড়ায়। তুলির শেষ আঁচড়, দেবীর সাজসজ্জা আর অলংকার পরাতে দিনরাত এক করে কাজ করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।
বাঘার পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায় এক অনন্য ব্যস্ততার চিত্র। মণ্ডপে মণ্ডপে মৃন্ময়ী প্রতিমাকে চিন্ময়ী রূপে রূপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। এই কাজে পুরুষদের পাশাপাশি সমানতালে ব্যস্ততা দেখা গেছে পরিবারের নারী সদস্যদের মধ্যেও।
উপজেলার পাকুড়িয়া গ্রামের ৯০ বছর বয়সী জ্যেষ্ঠ প্রতিমা কারিগর আনন্দ মালাকার। বয়সের ভারে চোখে ঝাপসা দেখলেও এই বয়সেও হাত থেমে নেই তার। পরম যত্নে ও নিখুঁতভাবে দেবীর শাড়ির আঁচল সাজিয়ে দিচ্ছেন তিনি। প্রায় ৬০ বছর ধরে প্রতিমা গড়ার এই পেশাকেই তিনি জীবিকা ও সাধনা হিসেবে আঁকড়ে ধরে আছেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ৯০ বছরের প্রতিমা কারিগর আনন্দ মালাকার জানান, “বাপ-দাদার আমল থাইকা এই কাম করি। বয়স হইছে, তাও যতক্ষণ শরীরে কুলায়, মা দুর্গারে না সাজাইলে ভালো লাগে না। কালকের মধ্যে সব প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে হইবো।”
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এবার বাঘা উপজেলায় মোট ৪৭টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রতিটি কারিগরের ওপরই রয়েছে বাড়তি চাপ ও শেষ মুহূর্তের দায়িত্ব।
পূজা উদযাপন পরিষদের বাঘা শাখা কমিটির সভাপতি সুজিত কুমার বাকু পান্ডে জানান, “আমাদের প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। কারিগররা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুন্দর কাজ করেছেন। কালকের মধ্যেই প্রতিমা মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হবে।”
মাটির প্রতিমায় প্রাণ প্রতিষ্ঠার এই শেষ ধাপে ঢাকের আওয়াজ আর উৎসবের আমেজে মুখরিত বাঘার পালপাড়া। আর মাত্র একটি দিনের অপেক্ষা; এরপরই শঙ্খ, উলুধ্বনি আর ঢাকের তালে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে ভক্তরা।#