
মোহা: সফিকুল ইসলাম, শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি: আসন্ন রবি শস্য চাষকে কেন্দ্র করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সার সংকটকে ঘিরে চরম হতাশা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষক সমাজে। বিশেষ করে ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সার বীজ বপনের পূর্বে জমিতে প্রয়োগ করতে হয় বিধায় কৃষকদের মাঝে সার পাওয়ার আকুলতা ও উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে চরম দুর্ভোগের চিত্র উঠে এসেছে।
দীর্ঘ লাইন ও নির্ঘুম রাত: গত রোববার (মনাকষা বাজারে ডিলার আকবর আলীর ভাইয়ের সারের গোডাউনের সামনে সহস্রাধিক কৃষক সার পাওয়ার আশায় সারারাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দিন পার করেন।
চরম হাতাশা: তারাপুর থেকে আগত কৃষক শামীম জানান, তিনি দুই দিন ধরে লাইনে থেকেও এক বস্তা ডিএপি সার পাননি, অথচ তার ২০ বিঘা জমিতে অন্তত চার বস্তা সার প্রয়োজন। ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ কৃষক তাহসান বলেন, অসুস্থ শরীর নিয়ে গত রাত দুইটা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি জাতীয় পরিচয়পত্রটি জমা দিতে পারেননি।
অতিরিক্ত মূল্য ও সিন্ডিকেট: কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গোপনে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। সরকারি মূল্যের (১০৫০ টাকা) ডিএপি সার কোথাও ১২০০ টাকায়, আবার বাইরের খুচরা দোকানে ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সাহাপাড়ার কৃষক আব্দুস সালামের দাবি, সারের একটি বড় অংশ গোপনে বাইরে পাচার বা বিক্রি করা হচ্ছে।

সার সংকট ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাঃ নয়ন মিয়া।
কৃষকদের অগ্রিম মজুদের প্রবণতা: তিনি জানান, এলাকায় কোনো সার সংকট বা সিন্ডিকেট নেই। মূলত রবি মৌসুমে আগাম সার মজুদ করার প্রবণতার কারণে কৃষকদের মধ্যে এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
শৃঙ্খলা রক্ষা ও নজরদারি: বিশৃঙ্খলা এড়াতে গোডাউনগুলোতে পুলিশ, আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া গোডাউন থেকে বস্তা গণনা করে দেওয়া এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তা ডিলার ও কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
পর্যাপ্ত বরাদ্দ: চলতি রবি মৌসুমে উপজেলায় পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে—যাতে রয়েছে ডিএপি ৭৬০ মেট্রিক টন, এমওপি ৩০০ মেট্রিক টন, টিএসপি ২২৫ মেট্রিক টন এবং ইউরিয়া ৫০০ মেট্রিক টন। চাহিদা অনুযায়ী এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিধায় সার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।#