
বিশেষ প্রতিনিধি: হিজরি সনের ১০ মহরম। কারবালার শোকাবহ ঘটনার স্মরণে দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে গভীর বেদনার। রোজা, কোরআন তেলাওয়াত ও তাজিয়া মিছিলের মধ্য দিয়ে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ দিনটি পালন করেন। এই শোকের দিনেই বাঘা পৌরসভার কলিগ্রাম এলাকায় অবস্থিত ‘পাগলী মা’-এর মাজার প্রাঙ্গণে বসেছে বার্ষিক ওরস ও লোকজ মেলা।মাজার জিয়ারতে দূর-দূরান্ত থেকে আসেন ভক্ত ও সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার( ৩০-০৬-২০২৬) ওরশ অনুষ্ঠানে দোয়া প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ৫(পাচ) দিনব্যাপী এ আয়োজন।
উপস্থিত ছিলেন, মাজার কমিটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি প্রমুখ। কমিটির সভাপতি জানান,গত শুক্রবার ( ১০ মহরম) আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান খান মানিক, বাঘা পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এসএম সালাউদ্দিন আহমেদ শামীম সরকার প্রমুখ।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, বহু বছর ধরে এই মাজারে ওরস হয়ে আসছে। আগে মেলার প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা, জারি-সারি গান ও মিষ্টির দোকান। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন লাঠি খেলা হারিয়ে গেছে। তার পরিবর্তে মেলায় স্থান পেয়েছে নাগরদোলা, দোলনা, চরকি ও বিভিন্ন ধরনের দোকানপাট। শিশু-কিশোরদের ভিড়ে মেলা জমে ওঠে। এদিকে শোকের দিনে মাজার প্রাঙ্গণে বিনোদনের আয়োজন নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদল মানুষের মতে, এটি এলাকার বহু বছরের লোকজ ঐতিহ্য। শিশু-কিশোররা মেলা দেখে আনন্দ পায়। অন্যদিকে অনেক ধর্মপ্রাণ মানুষের মতে, ১০ মহরম শোক পালনের দিন। এই দিনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এরকম বিনোদন বর্জন করাই ভালো।

জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে মাজার কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক মেয়র আক্কাস আলী। ৫ আগস্ট দেশের পট পরিবর্তনের পর বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, “ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখেই ওরসের কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।”
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, “আমরা মুসলমান হিসেবে ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষা করেই সব কিছু করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে ওরস ও মেলা আয়োজনের বিষয়ে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে।”#