1. admin@sobujnagar.com : admin :
  2. sobujnoger@gmail.com : Rokon :
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ:
ঝড়ে লন্ডভন্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জ,ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি শিবগঞ্জ বিপুল পরিমান নেশা জাতীয় সিরাপ সহ পাথর ভর্তি ভারতীয় ট্রাক জব্দ করেছে বিজিবি ​মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ বিভেদ: সংকট ও সংহতির পথে উত্তরণ  শিবগঞ্জের তেলকুপি কলমদর আলিম মাদ্রাসায়  অনিয়মের অভিযোগ, এলাকায় উত্তেজনা শিবগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায়  সাইকেল আরোহী নিহত ‎অভয়নগরে ভুয়া দর্জি প্রশিক্ষণের জাল, নিবন্ধনহীন প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ বাণিজ্য ‎ গোদাগাড়ীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরদার পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযান পোরশায় চার মাদক ব্যবসায়ী আটক মায়ের কোল খালি, ছেলের পথচলা থেমে গেল—৩ ঘণ্টার ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু, পাশাপাশি দাফন ঠাকুরগাঁওয়ে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং 

​মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ বিভেদ: সংকট ও সংহতির পথে উত্তরণ

  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

​— ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম ৥

​সারা বিশ্বের এই অস্থির সময়ে মুসলিম উম্মাহর অভ্যন্তরীণ ঐক্য আজ এক বড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে। ইসলাম যেখানে শান্তির ধর্ম ও সম্প্রীতির বার্তা বাহক, সেখানে তুচ্ছাতিতুচ্ছ মাসয়ালা বা পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে সৃষ্টি হওয়া বিভাজন আমাদের জাতীয় ও ধর্মীয় শক্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নিচে ধর্ম, দর্শন, সমাজবিজ্ঞান ও শিক্ষা দর্শনের আলোকে এই সংকটের বিশ্লেষণ ও উত্তরণের পথ তুলে ধরা হলো। ​

​ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে দেখা গেছে, মতাদর্শগত বৈচিত্র্য একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হয়। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে মুসলিম বিশ্বের চিত্রটি ভিন্ন। শিয়া-সুন্নী বিভাজন তো ছিলই, বর্তমানে সুন্নী সম্প্রদায়ের অভ্যন্তরে—বিশেষ করে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ায়—হানাফি ও আহলে হাদিস পন্থীদের মধ্যে যে তীব্র কাদা-ছোড়াছুড়ি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা তৈরি হয়েছে, তা উদ্বেগের বিষয়। এই বিভেদ কেবল তাত্ত্বিক তর্কের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সামাজিক কোন্দল এবং ঘৃণা ছড়ানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।

​দ্বন্দ্বের যৌক্তিকতা: শাস্ত্রীয় বৈচিত্র্য বনাম আচরণগত উগ্রতা ​হানাফি ও আহলে হাদিস পন্থার মাঝে পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকাটা জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে অস্বাভাবিক নয়। হানাফি মাজহাব যেখানে সুশৃঙ্খল আইনি কাঠামো (Feqh) ও বিচারবুদ্ধির ওপর জোর দেয়, সেখানে আহলে হাদিসগণ হাদিসের প্রত্যক্ষ পাঠ ও বিশুদ্ধতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। এই দুই পদ্ধতির সহাবস্থান জ্ঞানের জগতকে সমৃদ্ধ করার কথা ছিল। কিন্তু দ্বন্দ্বটি যখন কেবল ‘পদ্ধতি’ থেকে বেরিয়ে ‘অহংকারে’ রূপ নেয়, তখন তা আর যৌক্তিক থাকে না। ইসলামের মৌলিক আকিদা অভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও শাখা-প্রশাখা (ফুরুআ) নিয়ে একে অপরকে ভ্রান্ত বলা বা সামাজিক বয়কট করা চরম অযৌক্তিক এবং ইসলামের মূল চেতনার পরিপন্থী।

​দর্শনের দৃষ্টিতে: বৈচিত্র্য বনাম বিভক্তি ​ইসলামের স্বর্ণযুগে ইমামগণের মাঝে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ছিল, কিন্তু তার ভিত্তি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। ​ইজতিহাদ ও সহনশীলতা: দর্শনের দৃষ্টিতে কোনো একটি বিষয়ে একাধিক সঠিক ব্যাখ্যা থাকা সম্ভব। হানাফি ও আহলে হাদিসদের মধ্যকার বিরোধটি মূলত আইনতত্ত্বের প্রয়োগ সংক্রান্ত, যা একটি স্বাভাবিক বুদ্ধিবৃত্তিক প্রক্রিয়া। ​

দৃষ্টিভঙ্গির সংকীর্ণতা: যখন কোনো পক্ষ দাবি করে যে কেবল তাদের পদ্ধতিই জান্নাতের পথ এবং বাকিরা ভ্রান্ত, তখনই দর্শনের ‘বহুত্ববাদ’ (Pluralism) আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং গোঁড়ামির জন্ম হয়। ​সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে: সামাজিক সংহতির ভাঙন ​সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও পরিচয়ের রাজনীতি: বর্তমানে ধর্মীয় বিভেদকে এক ধরনের ‘আইডেন্টিটি পলিটিক্স’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে গোষ্ঠীস্বার্থ হাসিল করা হয়। ​উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়া: একটি জাতির সিংহভাগ শক্তি যখন একে অপরকে ভুল প্রমাণ করতে ব্যয় হয়, তখন তারা শিক্ষা, প্রযুক্তি বা গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারে না। ​

মুসলিম সংহতি ও উত্তরণের পথ ​এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে কেবল আলোচনার টেবিল যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন: ​১. মৌলিক বিষয়ে ঐক্য (উসূল ও ফুরুআ): আমাদের বুঝতে হবে যে, ইসলামের মূল স্তম্ভ বা ‘উসূল’ নিয়ে কারো মধ্যে কোনো মতভেদ নেই। শাখা-প্রশাখা বা ‘ফুরুআ’ বিষয়গুলোতে সাহাবায়ে কেরামদের যুগ থেকেই বৈচিত্র্য ছিল। এই বৈচিত্র্যকে ‘মতভেদ’ না বলে ‘ব্যাখ্যার স্বাধীনতা’ হিসেবে দেখা উচিত। ২. দ্বিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার সমন্বয়: আলিয়া-কওমি এবং সাধারণ শিক্ষা ধারার মধ্যে মানসিক দূরত্ব ঘোচাতে হবে। উভয় ধারায় মৌলিক নৈতিকতা এবং আধুনিক বিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটাতে হবে যাতে ছাত্ররা একে অপরের ভাষা ও চিন্তা বুঝতে পারে। ৩. তুলনামূলক ফেকহ শাস্ত্রের পঠন: শিক্ষার্থীদের কেবল একটি নির্দিষ্ট মতবাদ না পড়িয়ে ‘তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’ ও ‘তুলনামূলক ফেকহ’ পড়াতে হবে। এতে তারা বুঝতে শিখবে যে, মতপার্থক্য মানেই শত্রুতা নয়, বরং এটি গবেষণার একটি সৌন্দর্য। ৪. আলেম সমাজের নৈতিক দায়বদ্ধতা: আলেম সমাজকে সাধারণ মানুষের মাঝে উস্কানি না দিয়ে সহনশীলতার শিক্ষা দিতে হবে। ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম শাফিঈর মতো মহৎ ইমামদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা জরুরি। ​

উপসংহার: ​মুসলিম উম্মাহর বর্তমান বিভেদ কোনো সাধারণ ধর্মীয় বিতর্ক নয়, এটি একটি জাতিগত অস্তিত্বের সংকট। হানাফি বা আহলে হাদিস—পরিচয় যাই হোক না কেন, চূড়ান্ত বিচারে সবাই এক আল্লাহর বান্দা এবং এক রাসূলের অনুসারী। এই ধ্রুব সত্যটি যত দ্রুত আমাদের ধর্মীয় নেতা ও সাধারণ সমাজ অনুধাবন করবে, ততই মঙ্গল। বিবাদ-বিসম্বাদ ভুলে শিক্ষা, আদর্শ এবং মুসলিম সংহতির ভিত্তিতে হাতে হাত মিলিয়ে না চললে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা কেবল এক বিভক্ত ও দুর্বল জাতির ইতিহাস রেখে যাব, যা হবে আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক ব্যর্থতা।#

লেখক একজন শিক্ষক, কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক

এই সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট