____ ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম
ভূমিকা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচন হলো জনমত প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে এখন বইছে মিশ্র হাওয়া। একদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের আয়োজন নিয়ে সরকারের কঠোর প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতের মতো বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের প্রবল সংশয়। ভোটারদের মনে একটাই প্রশ্ন—এবারের নির্বাচন কি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে, নাকি অতীতের মতো সহিংসতা ও ব্যালট লুটের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? একটি সুন্দর আগামীর জন্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক আস্থার সংকট দূর করা এখন সময়ের দাবি।
বিরোধী দলের সংশয় ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিএনপি এবং জামায়াত ইসলামীসহ বেশ কিছু বিরোধী দল নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মূল আশঙ্কাগুলো হলো:
ব্যালট লুট ও কেন্দ্র দখল: স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে ভোট কারচুপির আশঙ্কা।
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা: মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরকারের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করতে পারেন এমন সন্দেহ।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড: প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সব দলের সমান সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের বিশেষ পদক্ষেপসমূহ জনগণের আস্থা ফেরাতে এবং সহিংসতা রুখতে সরকার ও নির্বাচন কমিশন এবার নজিরবিহীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে:
সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তিগত নজরদারি: ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি সরাসরি পর্যবেক্ষণের জন্য ২৫,০০০-এর বেশি বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্ত ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ টহল: সীমান্ত ও চরাঞ্চলগুলোতে বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হয়েছে। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন (পরিসংখ্যান) এবারের নির্বাচনে প্রায় ৯ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫০ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে মোতায়েন করা হয়েছে।
বাহিনীর সদস্য সংখ্যার তালিকা নিচে দেওয়া হলো: বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: ১,০০,০০০ জন (স্ট্রাইকিং ফোর্স) বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি: ৫,৬৭,০০০ জন (কেন্দ্রের নিরাপত্তা) বাংলাদেশ পুলিশ: ১,৫৭,৮০৫ জন (আইন-শৃঙ্খলা ও মোবাইল টিম) বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ): ৩৭,০০০+ জন (সীমান্ত ও দুর্গম এলাকা) কোস্ট গার্ড: ৩,৫০০+ জন (উপকূলীয় এলাকা) র্যাব ও বিশেষ বাহিনী: প্রয়োজনীয় সংখ্যক সদস্য (গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযান)
উপসংহার: একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কেবল নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সরকার, রাজনৈতিক দল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার ফল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই ব্যাপক তৎপরতা জনমনে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, বিরোধী দলগুলোর সংশয় দূর করতে মাঠ পর্যায়ে তাদের শতভাগ নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। যদি সব পক্ষ দায়িত্বশীল আচরণ করে এবং জাল ভোট বা ব্যালট লুট কঠোরভাবে দমন করা যায়, তবেই ২০২৬ সালের এই নির্বাচন দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে!#
লেখক একজন শিক্ষক কবি গবেষক ও প্রাবন্ধিক