বিশেষ প্রতিনিধি ঃ রাজশাহীর বাঘায় বুধবার (০২ এপ্রিল’২৫) বাঘা দরগা শরীফ প্রাঙ্গনে আধ্যাত্নিক দরবেশের পবিত্র ওরস অনুষ্ঠিত হয়েছে। চিঠি পত্র কিংবা মৌখিক কোন দাওয়াত ছাড়াই হাজারো মানুষের সমাগম দেখা গেছে ওরস অনুষ্ঠানে। প্রতি বছরে ন্যায় এবারেও আরবি শওয়াল মাসের ৩ তারিখ বাঘা ওয়াকফ এস্টেট মাজার পরিচালনা কমিটির আয়োজনে হযরত শাহ মোয়াজ্জেম দানিশ মন্দ ওরফে শাহদৌলা (রঃ) এর ৪৯৬তম ও তদ্বীয় ছেলে হযরত আব্দুল হামিদ দানিশ মন্দ কুতুবুল আফতাব (রহঃ) এর ৩৯৭তম ওফাত দিবসে পবিত্র ওরস এর আয়োজন করা হয়।
যোহর নামাজ শেষে বিশেষ প্রার্থনার পর আগতদের মধ্যে তবারক বিতরণ করা হয়। মাজার প্রাঙ্গন ঘুরে দেখা যায়,মুসলমানদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও সব সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ এসেছিলেন ওরস অনুষ্ঠানে। স্থানীয়রা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাদের বাস তারাও ছুটে আসেন বাঘা দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত ওরশ মোবারকে। চিঠি পত্র কিংবা মৌখিক কোন আমন্ত্রন ছাড়াই পবিত্র ওরস অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন, চিশতিয়া দরবার শরীফের পরিচালক আলতাফ হোসেন, দৌলতপুরের ওমর ফারুক, ঈশ্বরদীর রবিন, চারঘাটের নিমপাড়ার মোস্তাফিজুর সহ অনেকেই।
তারা বলেন, মাজার জিয়ারত, মানত পরিশোধ, রোগমুক্তি, মনবাসনা পূরণ, আধ্যাত্মিক কামিয়াবি লাভসহ নানা কারণে আসেন তারা। মাজার পরিচালনা কমিটির সদস্য অফিসার ইনচার্জ আফম আছাদুজ্জামান ও ওরস পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, রাজনৈতিক দল,মেলা কমিটি,রোভার স্কাউটসসহ সকলের সহযোগিতায় সুশৃঙ্খল ভাবে ওরস অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
প্রভাষক আব্দুল হানিফ মিয়ার সঞ্চালনায় ওরস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম বাবলু, আশরাফ আলী মলিন,সুরুজ্জামান, সালেহ আহমেদ, সহিদুল ইসলাম,আব্দুল লতিফ স্পোটস একাডেমীর পরিচালক রানা আহমেদ সহ অনেকে।
মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, এবার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের আয়োজন রেখে ওরস মোবারক এর আয়োজন করা হয়। আয়োজনে গরুর মাংস ছাড়াও খাসির মাংসের ব্যবস্থা ছিল। জানা যায়, ধর্মীয় আদর্শের দিক-নির্দেশনার মহৎ পুরুষ আব্বাসীর বংশের হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরফে শাহদৌলা (রঃ)ও তার ছেলে হযরত আব্দুল হামিদ দানিশমন্দ (রঃ) এর সাধনার পীঠস্থান বাঘা।
প্রায় ৫০০ বছর আগে সুদূর বাগদাদ থেকে ৫ জন সঙ্গীসহ বাঘা এসেছিলেন ইসলাম প্রচারের জন্য। বসবাস শুরু করেন, পদ্মা নদীর কাছে কসবে বাঘা নামক স্থানে। আধ্যাত্মিক শক্তির বলে এলাকার জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেন। তাদের ওফাৎ দিবস স্বরণে প্রতিবছর পবিত্র ওরস অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাঘা মাজার ওয়াকফ এষ্টেট, আধ্যাত্বিক দরবেশ ও পবিত্র ওরশ মোবারক সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, হযরত আব্দুল হামিদ দানিশমন্দ (রঃ) এর মৃত্যুর পর,তাঁর তৃতীয় ছেলে মাওলানা শাহ আব্দুল ওয়াহাব (রঃ) খানকার দায়িত্বভার গ্রহন করেন। ওই সময় তিনি দিল্লীর সম্রাট শাহাজানের প্রেরিত একটি শাহী ফরমান যোগে ৪২ মৌজা মাদদমাস হিসেবে গ্রহন করেন। (১০৩০ হিজরি) যার বাৎসরিক শালিমানা ছিল ৮০০০ টাকা। এই মাদাদমাসের উদ্দেশ্য ছিল,এই অর্থ সৎ কাজে ব্যয় করা,পরিবার বর্গের ভরন পোষণ করা এবং বাদশাহের জন্য দোয়া খায়ের করা।
মাওলানা শাহ আব্দুল ওয়াহাব (রঃ) এর মৃত্যুও পর ৪২টি মৌজা তার পুত্র হযরত শাহ মোহাম্মদ রফিক (রঃ) এবং হযরত শাহ মোহাম্মদ নুুরুল আরেফিনের পরিার বর্গেও মধ্যে বন্টন করা হয় এরই উদ্দেশ্য। হযরত শাহ মোহাম্মদ রফিক (রঃ) তার অংশের২০৩৭/আনা শালি আনার সম্পত্তি(১০২৮হিঃ) ওয়াকফ করেন। ১৮০৫ সনের পর থেকে এই ীসিল ওয়াকফনামা দলিলটি আর পাওয়া যায়না। ১৪ তম মোতাওয়াল্লি সাজ্জাদনিশীল খন্দকার মনিরুল ইসলামের সময় ১৯৫৩ সালে প্রজাসত্ব আইনটি পাশ হলে বাঘার রফিকি ওয়াকফ এষ্টেট অধিকাংশ প্রজা বিলি থাকায় সরকার অধিগ্রহন করে ।#