
সাব্বির আলম বাবু, ভোলা প্রতিনিধি: ভোলা জেলায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে নির্মিত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ তিন বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আধুনিক অ্যাকাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন ও ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেলসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ ও অনিশ্চয়তা।
ভোলার দৌলতখানের খায়েরহাটে স্থাপিত এই ম্যাটস প্রকল্পে রয়েছে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন, বৈদ্যুতিক সাবস্টেশন, ছাত্র-ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল, অধ্যক্ষের বাসভবন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের কোয়ার্টার। ২০১৯ সালে বরিশালের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে এর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ৩০ কোটি ৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০২২ সালের মে মাসে কাজ শেষ হয়। এরপর ২০২৩ সালে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ভবনটি হস্তান্তর করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো জনবল নিয়োগ করা হয়নি। প্রতিবছর অন্তত ৫০ জন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট এখান থেকে পাস করে বের হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
স্থানীয়রা আক্ষেপ করে বলেন, এখানে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক কেউ নেই, প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। ভোলা সদর হাসপাতালের একজন নার্স জানান, ম্যাটসটি চালু হলে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উপকৃত হবে এবং ভোলাবাসীর চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত হবে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকেও ট্রেনিং সেন্টারটি দ্রুত চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
দৌলতখান খায়েরহাট ৩০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. বখতিয়ার আল-মামুন জানান, অবকাঠামোর কাজ সম্পন্ন হলেও কার্যক্রম শুরু হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাঁরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।
প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার দায়িত্ব স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে হলেও বরিশাল বিভাগে নিজস্ব কার্যালয় না থাকায় নিয়মিত তদারকিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ভোলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহিনুর ইসলাম জানান, সিভিল সার্জনের কাছে হস্তান্তরের পর পরবর্তী কার্যক্রম বা শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগই বিস্তারিত বলতে পারবে। এদিকে বরিশাল স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসদুল আলম জানান, এখনো জনবল তৈরি না হওয়ায় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, ম্যাটস ভবনটিতে নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার চালু করা যায় কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি আসার পর একটি প্রতিনিধি দল ভবনটি পরিদর্শন করেছে। ভোলার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, ট্রেনিং সেন্টার হলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত নার্সদের ১৫ দিন বা অন্যান্য বেসিক প্রশিক্ষণ এখানে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। সরকারি এই সম্পদ অকেজো ফেলে না রেখে বিকল্প ইনস্টিটিউট হিসেবে ব্যবহার করার পক্ষে মত দেন তিনি।#