
তৌহিদ আক্তার পান্না,ঈশ্বরদী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, পাবনা জেলার পাঁচটি আসন এলাকায় উত্তেজনা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকেই জেলার শহর, বন্দর, গ্রামীণ হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় শুরু হয়েছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। মিছিল-মিটিং, জনসভা, পথসভা, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ,বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা ও জনসংযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে নির্বাচনি এলাকা। মাইকিংয়ের উচ্চ শব্দে শহর ও গ্রামবাসীদের কান ঝালাপালা, অনেকেই বিরক্ত আবার অনেকেই দীর্ঘদিন পর ভোটের আমেজে অনন্দ উপভোগ করছেন। রাতদিন প্রচার-প্রচারণার কাজে প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের গলদঘর্ম অবস্থা। ভোটারদের মধ্যেও নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনা কম নেই। কার প্রার্থী কত যোগ্য তা নিয়ে বিতর্ক ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীকে পরাজিত করার জন্য নানা কৌশলও অবলম্বন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামায়াত বিএনপির কেউই স্বস্তিতে নেই।

ভোটাররা বলছেন, পাবনা জেলার পাঁচটি আসনেই হাড্ডাহাডি লড়াই হবে। এবারের নির্বাচনে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা জয়-পরাজয় নির্ধারণের মানদন্ড হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার অভিজ্ঞতা তরুণসহ সব ভোটারদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে। তরুণ ভোটারের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন।

দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঈশ্বরদীসহ পাবনা জেলার মোট ৫টি আসনে বিএনপি, জামায়াতসহ নয়টি দলের মনোনীত এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৮ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এর মধ্যে ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াসহ ৩টি আসনে রয়েছেন ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা এবং প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা তাদের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে রাতদিন ভোটাদের দ্বারেদ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন। জেলার ৫টি আসনে প্রায় ২৩ লাখ ভোটারের মনজয় করে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায় করতে প্রার্থীদের চোখে এখন আর ঘুম নেই।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি,বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ ভোটারতের দেওয়া তথ্য মতে, পাবনা জেলার ৫টি আসনের মধ্যে ৫টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে লড়াই হলেও পাবনা-৪ আসনে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত দুই দলই জেলার পাঁচটি আসনের সবকটিই নিজেদের কব্জায় নিতে এবং বিগত সময়ে হারানো আসন নিজেদের পুনরুদ্ধাদের চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নেমেছেন। আসনগুলোতে জয়ের মালা কার গলায় উঠে এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।#