নরসিংদী থেকে বাবুল মিয়া: নরসিংদী পৌর শহরের লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে রাহামনি (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির মৃত্যুর পর ক্ষুব্ধ স্বজন ও এলাকাবাসী দুই চিকিৎসককে মারধর করে আটকে রাখে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের থানায় নিয়ে যায়। নিহত রাহামনি রায়পুরা উপজেলার হাঁটুভাঙ্গা এলাকার নিজামুল হক ও তানিয়া আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান।
পরিবারের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও এনেস্থেশিয়ার কারণেই তাদের মেয়ে মারা গেছে। যে কারণে মৃত্যু পরিবারের সদস্যরা জানান, রাহামনি দীর্ঘদিন ধরে টনসিলের সমস্যায় ভুগছিল। স্থানীয় নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. তন্ময় করের অধীনে এক মাস ধরে তার চিকিৎসা চলছিল। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসক তাকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে লাইফ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে অপারেশন শুরু হয়। এতে এনেস্থেশিয়া দেন নরসিংদী সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সুদীপ্ত সাহা এবং অপারেশন করেন ডা. তন্ময় কর। কিন্তু অপারেশনের প্রায় এক ঘণ্টা পরই রাহামনির অবস্থার অবনতি হয় এবং সে মারা যায়।
শোক ও ক্ষোভ রাহামনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পরিবার, স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা লাইফ কেয়ার হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দুই চিকিৎসককে মারধর করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দুই চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এদিকে একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে রাহামনির মা পাগলপ্রায়। তিনি বিলাপ করে বলছিলেন, “আমার মেয়ে আর স্কুলে যাবে না, আর আইসক্রিম খেতে চাইবে না। আমার একমাত্র মেয়ে আর নাই। আমি কি নিয়ে থাকব!”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লাইফ কেয়ার হাসপাতালের পরিচালক ফজলুল কাদের জানান, অপারেশনের পর শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফাড করা হয়েছিল, কিন্তু তার আগেই শিশুটি মারা যায়।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদুল হক বলেন, “শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জানায়নি। তারা রাহামনির মরদেহ নিয়ে বাড়ি চলে গেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#